‘প্রধানমন্ত্রীর নীরবতার অর্থ কী?’, ভারত-পাক নিয়ে ট্রাম্পের দাবি নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ কংগ্রেসের

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান বিরোধ নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারবার মধ্যস্থতার দাবি নিয়ে আবারও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। ট্রাম্প বুধবার (২১ মে) আবারও দাবি করেছেন যে, তাঁরই মধ্যস্থতায় এবং ‘বাণিজ্যের মাধ্যমে’ ভারত-পাক বিরোধের অবসান ঘটেছে। এরপরেই কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেছে।

বৃহস্পতিবার এক্সে (পূর্বতন টুইটার) কংগ্রেস নেতা পবন খেরা কড়া ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “এই নিয়ে অষ্টমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করলেন যে তাঁর জন্য অপারেশন সিঁদুর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন যে, ভারতকে অপারেশন সিঁদুর বন্ধ করাতে বাণিজ্যের আশ্রয় নিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী একবারের জন্যও এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেননি। এই নীরবতার অর্থ কী?” এর আগেও সংঘর্ষবিরতি থেকে শুরু করে বাণিজ্য, এমনকি কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেওয়া-সহ একাধিক দাবি করেছেন ট্রাম্প। প্রতিটি বিষয় ধরে ধরে মোদীর জবাব চেয়েছিল কংগ্রেস।

বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সঙ্গে বৈঠক চলাকালীন ট্রাম্প ফের ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দাবি করেন। তিনি বলেন, “ভারত ও পাকিস্তানের ব্যাপারে আমাদের ভূমিকা যদি দেখেন… আমরা গোটা বিষয়টির সমাধান বের করেছি। আমার বিশ্বাস, ব্যবসার মাধ্যমেই সমাধান বের করা গিয়েছে। আমরা ভারতের সঙ্গে বড় চুক্তি করতে চলেছি। বড় চুক্তি করতে চলেছি পাকিস্তানের সঙ্গেও।”

পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেন, “কী যে হচ্ছিল! শেষ কথা কাউকে না কাউকে বলতেই হত। পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছিল ক্রম, সংকট গভীর হচ্ছিল। পাকিস্তানে কিছু চমৎকার মানুষ আছেন, কিছু ভালো নেতা আছেন এবং ভারত আমার বন্ধু, মোদী আমার বন্ধু। দু’পক্ষের সঙ্গেই কথা বলি আমি।” ট্রাম্পের এই মন্তব্যে সিরিল রামাফোসাকেও সায় দিতে দেখা যায়। মোদী যে তাঁদের দু’জনেরই ‘বন্ধু’, সে কথা একবাক্যে স্বীকার করে নেন সিরিলও।

তবে, কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ভারতের অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট। বিদেশমন্ত্রক এ বিষয়ে বারবার জানিয়েছে যে, “কাশ্মীর নিয়ে এখনও একই অবস্থান ভারতের। কাশ্মীর ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক ইস্যু। এ বিষয়ে তৃতীয় কোনও শক্তির মধ্যস্থতা সহ্য করবে না নয়াদিল্লি। পাকিস্তানের সঙ্গে একমাত্র একটি ইস্যুতেই কথা হতে পারে – পাক অধিকৃত কাশ্মীর ফেরানো। অন্য কোনও বিষয়ে নয়।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ধরনের বারবার দাবি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর নীরবতা, কেন্দ্রের উপর বিরোধীদের চাপ বাড়াতে পারে। ‘বিশ্বের কোনও শক্তি’ সম্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী মোদী কাকে বার্তা দিলেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।