“সন্ত্রাসের জবাব ২২ মিনিটে”- ভারতের জল পাকিস্তানকে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদ এবং সীমান্তপারের হামলার বিরুদ্ধে আজ বিকানেরে এক জনসভায় কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ভারতের উপর যেকোনো হামলার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে এবং পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়া বন্ধ না করে, তবে তার ফল ভুগতে হবে। একইসঙ্গে তিনি পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) নিয়েও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।
পহেলগাঁও হামলা ও ভারতের পাল্টা জবাব
পহেলগাঁওতে জঙ্গিদের চালানো গুলির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পহেলগাঁওতে জঙ্গিরা যে গুলি চালিয়েছিল, তা ভারতবাসীর বুকে গিয়ে বিঁধেছিল। সারা দেশের মানুষ ঘুমাতে পারেনি তারপরে।” এরপর তিনি ২২ তারিখের (সম্ভবত পুলওয়ামা হামলার পরের এয়ার স্ট্রাইকের ইঙ্গিত) জবাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, “২২ তারিখের জবাবে আমরা ২২ মিনিটে ওদের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছি। যারা সিঁদুর মুছতে এসেছিল, তাদের মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছি। যারা ভাবত, ভারত চুপ থাকবে, তাদের যোগ্য জবাব দিয়েছি। নিজেদের অস্ত্র নিয়ে যারা অহংকার করত, তারা এখন ভীত।” মোদী এটিকে ‘প্রতিশোধ নয়, ন্যায়ের নয়া রূপ’ এবং ‘আক্রোশ নয়, সমগ্র ভারতের প্রত্যয়’ বলে অভিহিত করেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “এটা ভারতের নয়া স্বরূপ। আগে ঘরে ঢুকে আঘাত করেছিলাম। এখন সোজা বুকে আঘাত করেছি।” ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার ক্ষেত্রে আরও কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এরপরও সময় সেনা ঠিক করবে, আঘাতের উপায়ও সেনা ঠিক করবে।”
পাক সেনাকে মোদীর খোঁচা: ‘মোদীর শিরায় এখন গরম সিঁদুর বইছে’
পাকিস্তানি সেনাকে সরাসরি নিশানা করে মোদী বলেন, “পাকিস্তান কখনও ভারতের সঙ্গে সোজাসুজি লড়াই জিততে পারবে না। যতবার সোজাসুজি লড়াই হয়েছে, ততবার পাকিস্তানকে হারতে হয়েছে। তাই পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদকে হাতিয়ার বানিয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে এত বছর ধরে এমনটাই চলে এসেছে। কিন্তু পাকিস্তান ভুলে গেছে যে এখন মা ভারতীর সেবা করছে মোদী।” তিনি আরও বলেন, “মোদীর মাথা ঠান্ডা থাকে, তবে মোদীর রক্ত গরম। মোদীর শিরায় এখন রক্ত নয়, গরম সিঁদুর বইছে।”
‘প্রত্যেক সন্ত্রাসী হামলার দাম চুকোতে হবে পাকিস্তানকে’
পাকিস্তানের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে মোদী বলেন, “ভারত এখন স্পষ্ট করে দিয়েছে, প্রত্যেকটি সন্ত্রাসী হামলার দাম চুকোতে হবে পাকিস্তানকে। এই দাম চুকোতে হবে পাক সেনাকে।” বিকানেরে যে বায়ুসেনা ঘাঁটিতে তিনি অবতরণ করেছিলেন, সেখানেও পাকিস্তানের হামলার চেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তবে পাকিস্তান সেটা ছুঁতেও পরেনি। আর এখানের খুব কাছেই পাকিস্তানের ঘাঁটি ছিল। তবে এখন সেটা আইসিইউতে পড়ে আছে।”
বাণিজ্য ও আলোচনা নয়, শুধুমাত্র পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে কথা
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য বা আলোচনা হবে না। তিনি বলেন, “যদি কথা হয়, তাহলে শুধুমাত্র পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে।” সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়া বন্ধ না করলে পাকিস্তানকে এর চরম মূল্য দিতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। এর গুরুতর পরিণতি হিসেবে তিনি বলেন, “পাকিস্তান এরপর থেকে আর ভারতের ভাগের জল পাবে না। এটা ভারতের সংকল্প। বিশ্বের কোনও শক্তি আমাদের সেই সংকল্প থেকে টলাতে পারবে না।” মোদী জোর দেন যে, বিকশিত ভারতের জন্য সমৃদ্ধির পাশাপাশি সুরক্ষাও অত্যন্ত জরুরি।
উল্লেখ্য, এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যখন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে ভারত-পাক সংঘাত তিনিই থামিয়েছিলেন, তখন মোদীর ‘বিশ্বের কোনও শক্তি’ সম্বোধন করে কাকে বার্তা দিলেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে।