CBSE ছাত্রীদের জন্য দারুণ সুবর্ণ সুযোগ! প্রতি মাসে পেতে পারেন মোটা টাকা, দেরি না করে ঝটপট পড়ুন

সিবিএসই বোর্ড থেকে দশম শ্রেণীতে ৬০% বা তার বেশি নম্বর পাওয়া ছাত্রীদের জন্য রয়েছে এক দারুণ সুবর্ণ সুযোগ! যদি আপনার কন্যা সন্তান পরিবারের একমাত্র সন্তান হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সিবিএসই একক কন্যা সন্তান বৃত্তি ২০২৫’ প্রকল্পের আওতায় সে প্রতি মাসে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাবে, তাও দুই বছর ধরে।

প্রকল্পের যোগ্যতা ও উদ্দেশ্য:
কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের এই উদ্যোগটি মূলত মেধাবী মেয়েদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করার জন্য শুরু হয়েছে। এই বৃত্তির প্রধান শর্ত হলো:

একমাত্র সন্তান: আবেদনকারী ছাত্রীকে তার পরিবারের একমাত্র সন্তান হতে হবে, অর্থাৎ তার কোনো ভাই বা বোন থাকা চলবে না। এই কারণেই এর নাম “একক কন্যা সন্তান বৃত্তি” রাখা হয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: ছাত্রীকে সিবিএসই বোর্ড থেকে দশম শ্রেণীতে অন্তত ৬০% নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: দশম শ্রেণী পাশের পর একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীর পড়াশোনাও তাকে সিবিএসই থেকে স্বীকৃত কোনো স্কুল থেকেই করতে হবে।
এই প্রকল্পটি ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ অভিযানের সাথেও যুক্ত, যা মেয়েদের শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য পূরণ করে।

বৃত্তির বিশেষ সুবিধা:
আয়ের সীমা নেই: এই প্রকল্পের আওতায় পারিবারিক আয়ের কোনো সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
অন্যান্য বৃত্তির সুযোগ: ছাত্রী চাইলে এই বৃত্তির পাশাপাশি অন্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি বৃত্তিও নিতে পারবে।
টিউশন ফি-এর শর্ত: স্কুলের মাসিক টিউশন ফি ১,৫০০ টাকার বেশি হওয়া চলবে না (এনআরআই ছাত্রীদের জন্য এই সীমা প্রতি মাসে ৬,০০০ টাকা)।
এনআরআই ছাত্রীরাও যোগ্য: ভারতীয় নাগরিকরা ছাড়াও বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় (এনআরআই) ছাত্রীরাও এই বৃত্তির সুবিধা পেতে পারে। তাদের জন্য অবশ্য আলাদা ফি সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আবেদন ও নবীকরণ প্রক্রিয়া:
আবেদনের পদ্ধতি:

প্রথমে সিবিএসই-এর অফিসিয়াল বৃত্তি ওয়েবসাইটে (CBSE Scholarship Website) যেতে হবে।
সেখানে “নতুন নিবন্ধন” (New Registration) বা “নবীকরণ” (Renewal) বিকল্পগুলির মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে।
অনলাইন ফর্ম পূরণ করে রোল নম্বর, জন্ম তারিখের মতো প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।
স্ক্যান করা নথি (যেমন হলফনামা, স্কুল অধ্যক্ষের অঙ্গীকারপত্র ইত্যাদি) পিডিএফ ফর্ম্যাটে আপলোড করতে হবে। আপলোড করা ফাইলের আকার ১ এমবি-এর বেশি হওয়া চলবে না।
ফর্ম পূরণ ও জমা দেওয়ার পর তার প্রিন্ট নিয়ে সংরক্ষণ করে রাখা ভালো।
নবীকরণের পদ্ধতি:

যদি ছাত্রী একাদশ শ্রেণীতে বৃত্তি পেয়ে থাকে, তাহলে দ্বাদশ শ্রেণীতে এটি নবীকরণ করতে হবে। এর জন্য নবীকরণ ফর্মের সাথে কিছু নথি ডাকযোগে সিবিএসই-এর দিল্লির কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। এর মধ্যে একাদশ শ্রেণীর মার্কশিট, স্কুল থেকে টিউশন ফি-এর তথ্য, আধার লিঙ্কড ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ইত্যাদি প্রয়োজনীয়।

বৃত্তির টাকা কীভাবে পাবেন?
সমস্ত নথি সঠিক পাওয়া গেলে এবং শর্তগুলি পূরণ হলে, ছাত্রীর আধার লিঙ্কড ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা স্থানান্তর করা হয়। এই টাকা সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত পাওয়া যায়, অর্থাৎ একাদশ এবং দ্বাদশ উভয় শ্রেণীর জন্য।

সিবিএসই-এর এই উদ্যোগ ছাত্রীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এবং আর্থিকভাবে তাদের সহায়তা করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।