মা হতে না-পারার শাস্তি! গৃহবধূকে পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে শ্বাসরোধ করে খুন করল শ্বশুরবাড়ির লোকজন

সন্তান ধারণ করতে না পারার ‘অপরাধে’ এক ২৭ বছর বয়সী নববধূকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। কর্ণাটকের বেলাগবি জেলার অথনি তালুকের মালাবার গ্রামে ঘটেছে এই নৃশংস ঘটনা। হত্যার ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিল অভিযুক্তরা, তবে পুলিশের তদন্তে আসল সত্য বেরিয়ে এসেছে।
নিহত গৃহবধূর নাম রেণুকা সন্তোষ হোনাকান্ডে। অভিযোগের ভিত্তিতে তার স্বামী সন্তোষ হোনাকান্ডে, শ্বশুর কামান্না হোনাকান্ডে এবং শাশুড়ি জয়শ্রী হোনাকান্ডেকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে অথনি থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
বেলগাঁওয়ের পুলিশ সুপার ভীমশঙ্কর গুলেদ জানিয়েছেন, গত শনিবার রাত ৮টা নাগাদ এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে রেণুকাকে তার শ্বশুর কামান্না এবং শাশুড়ি জয়শ্রী বাইক থেকে রাস্তায় ফেলে দেয়। এরপর রাস্তার ধারে একটি বড় পাথর দিয়ে রেণুকার মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়, ঘটনাটিকে নিছক বাইক দুর্ঘটনা হিসেবে প্রমাণ করার জন্য তার পরনের শাড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান রেণুকা।
পুলিশ সুপারের দাবি, হত্যার ঘটনাকে দুর্ঘটনার রূপ দিতে শাড়ির আঁচল বাইকের চাকায় জড়িয়ে গিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রমাণ করতে চেয়েছিল হোনাকান্ডে দম্পতি। সে কারণে তারা মৃতদেহকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১২০ ফুট পর্যন্ত রাস্তায় টানতে টানতে নিয়ে যায়। এই হত্যাকাণ্ডে রেণুকার স্বামী সন্তোষও তাদের সঙ্গ দিয়েছিল।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। তদন্তে হত্যার বিষয়টি উঠে আসে বলে জানিয়েছেন বেলাগবির পুলিশ সুপার। অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করে অথনি থানার পুলিশ। বর্তমানে তারা বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছে। এই ঘটনা আবারও সমাজের গভীরে প্রোথিত কুসংস্কার এবং নারী নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরল।