গাজায় ফের ইজরায়েলি হামলা! হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত, অনাহারের মুখে ২০ লাখ

মঙ্গলবার ভোর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ৬০ জনেরও বেশি প্যালেস্তাইনি নিহত হয়েছেন। এই নতুন করে হামলার ঘটনায় গাজার পরিস্থিতি আরও গুরুতর আকার ধারণ করেছে এবং মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী খান ইউনিসের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নতুন করে জোরদার অভিযান শুরু করেছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা ৫৩,৪০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং আহতের সংখ্যা ১,২১,০০০ এর বেশি। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৩৭৫ জন প্যালেস্তাইনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরের হামলায় উত্তর গাজায় একটি আবাসিক ভবন ও একটি স্কুল-কাম-আশ্রয়কেন্দ্রে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। দেইর আল-বালাহ শহরে ১৩ জন এবং নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে আল-আকসা মার্টিরস হাসপাতাল জানিয়েছে। খান ইউনিসে দুটি হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছেন।
গাজার মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার তথ্য মতে, গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষ বর্তমানে অনাহারের মুখোমুখি। গত মার্চ মাস থেকে ইসরায়েল কর্তৃক খাদ্য ও ওষুধের সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপের ফলে মানবিক সহায়তার অভাবে পরিস্থিতি আরও সঙ্গীন হয়েছে। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত, গাজার পুরো জনসংখ্যা খাদ্য সংকটের গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ সরাসরি অনাহারের সম্মুখীন। গত দশ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে গাজায় কোনো মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে পারছে না, ফলে খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ এবং শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের মজুত দ্রুত শেষ হয়ে আসছে।
জাতিসংঘের মতে, গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ, অর্থাৎ প্রায় ১.৯ মিলিয়ন মানুষ এই যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যার মধ্যে অনেকেই একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এই সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে জরুরি সাহায্যের আহ্বান জানানো হলেও, পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপের দিকে যাচ্ছে।