“৭ ঘণ্টা পর জল দেওয়া হয়…”-আমেরিকায় এয়ারপোর্টে কি হয়েছিল?-জানালেন পার্বতী বাউল

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাউল শিল্পী পার্বতী বাউলকে প্রায় ১৪ ঘণ্টা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো বিমানবন্দরে আটকে রাখার পর দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশের মাটিতে, বিশেষত আমেরিকায়, বাউল গানকে জনপ্রিয় করে তোলা পার্বতী বাউলকে এবার অপ্রত্যাশিতভাবে বিমানবন্দর থেকেই ফিরতে হলো। সংবাদমাধ্যম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এবং তার দলের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সেই ১৪ ঘণ্টার বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
গত ১৮ মে সান ফ্রান্সিসকোতে পার্বতী বাউলের একটি কনসার্ট ছিল। সেই উদ্দেশ্যেই তিনি সফরে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দরেই তাকে বাধা দেওয়া হয়। পার্বতী বাউল জানান, “২৫ বছর ধরে আমি আমেরিকায় যাত্রা করছি। বর্তমান ভিসা নেওয়া হয়েছিল ২০১৭ সাল থেকে, তারপরও আমি প্রতি বছরই গেছি। শুধু করোনা মহামারির সময় দুবছর যাইনি, গতবছরও গেছি আমেরিকায়।” তিনি আরও বলেন, তাদের আমেরিকান আইনজীবী জানিয়েছেন যে, “যেটার ওপর ভিত্তি করে আমরা আমেরিকা আসতে পারি না এটা বলা হচ্ছে, সেটা শুধুই অনুমান। এটার কোনো ভিত্তি নেই। এটা একেবারে ব্যক্তিগত দিক থেকে করা একটা হেনস্থা, মূলত অভিবাসন অফিসারদের ওপর নির্ভর করছে এটা।” তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তাঁদের মধ্যে কী কাজ করেছে, কী প্রতিহিংসাপরায়নতা কাজ করেছে, এছাড়া আর কিছুই বলতে পারছি না। আমরা আইনগতভাবে সবকিছু দেখে নিয়েছি যে আমাদের কোনো ভুল নেই। তাই আমাদের আটকে দেওয়ার কোনো ভিত্তি নেই।”
কী কারণে এই বাধা দেওয়া হলো, সে বিষয়ে পার্বতী বাউল নিজেই সন্দিহান। তিনি বলেন, “এটা আমরা নিজরাই জানি না কী কারণে অভিবাসন আমাদের বাধা দিল। দিল্লি থেকে আমেরিকায় এসে বিমানবন্দরেই আমাদের আটকায় ইমিগ্রেশন বিভাগ। ব্যাগেজ নেওয়ার আগেই আমাদের কাছে জানতে চায় আমরা কী কারণে এখানে এসেছি, সেই কারণও খুব স্পষ্ট করে জানাই আমরা।” তিনি জানান, যে অফিসার তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন তিনি একজন কৃষ্ণবর্ণের আমেরিকান। সেই অফিসার ‘সেকেন্ডারি এনকোয়ারি’ করার কথা বলে তাদের ১৪ ঘণ্টা আটকে রাখেন এবং তাদের ফোন কেড়ে নেন।
পার্বতী বাউল অভিযোগ করেন, “আমাদের জন্য যাঁরা বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন তাঁরাও ১৪ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমরা জানাতেই পারিনি যে আমাদের সঙ্গে কী ঘটছে, আমাদের ফোন সহ ব্যক্তিগত সব জিনিস নিয়ে নেয় তাঁরা। আমাদের এমন কিছু প্রশ্ন করছিল যার উত্তর আমাদের থেকে পাচ্ছে না ফলে তাঁরা আরও বেশি বিরক্ত হয়ে পড়ছিল।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের রীতিমতো আটক করে রাখা হয়েছিল একটা ঘরে প্রায় ১৪ ঘণ্টা। ৭ ঘণ্টা পরে আমাদের জল দেওয়া হয়। আমার তো শেষ মুহূর্তে শরীরের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এখন তো কিছুদিন লাগবে আমার সুস্থ হতে।”
অভিবাসন দপ্তরের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল তারা এই কনসার্টের মাধ্যমে আমেরিকা থেকে কী সুবিধা পাচ্ছেন, তা জানা। পার্বতী বাউল জানান, “সব প্রশ্ন এসে ওই একটা জায়গাতে এসেই থেমে যাচ্ছে।” সেই দিনই তাদের মুম্বইয়ের একটি ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, “যদিও ওই দেশের আইন অনুযায়ী কিন্তু আমরা কোনো ভুল বা অন্যায় করিনি। কোনো কারণ ছাড়াই এই হেনস্থা হয়েছে আমাদের সঙ্গে।”
উল্লেখ্য, গত ১৮ মে রবিবার, মার্কিন সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টায় সান ফ্রান্সিসকোয় একটি কনসার্ট ছিল পার্বতী বাউলের। বিখ্যাত মার্কিন সঙ্গীতকার জর্জ ব্রুকসের সঙ্গে জুটি বেঁধে ধ্রুপদী সঙ্গীত ও জ্যাজের ফিউশনে গান করার কথা ছিল তার। কিন্তু তার আগেই আমেরিকায় ঢুকতে বাধা পান এই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাউল শিল্পী। এই ঘটনা ভারতীয় শিল্পীদের মধ্যে এক গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে ‘ব্যান’ তুলে নেওয়ার জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে, যা আমেরিকা থেকেই সম্পন্ন হবে। পার্বতী বাউল জানিয়েছেন, আমেরিকার শিল্পী মহল এবং যারা ভারতের আধ্যাত্মিকতা নিয়ে গবেষণা করেন, তারা প্রত্যেকেই এই বিষয়ে তাদের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: আজতক