ভারত-পাক উত্তেজনায় এবার PSL, ফিরে যেতে চাচ্ছেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা

ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের পর পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির জেরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এই উত্তপ্ত আবহে পাকিস্তানে চলমান পাকিস্তান সুপার লিগ (PSL)-এ অংশ নেওয়া ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং দেশে ফিরে যাওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে জরুরি বৈঠক করেছে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ECB) ও প্রফেশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (PCA)।

গত ৭ মে ভারতীয় সেনাবাহিনী কর্তৃক পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে একটি অভিযান চালানো হয়। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত অস্থির হয়ে উঠেছে। সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় উভয় দিকেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন সংবেদনশীল এবং উত্তপ্ত পরিবেশে পাকিস্তানে অবস্থান করে ক্রিকেট খেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা। তারা কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছেন না এবং তাদের মধ্যে অনেকেই দেশে ফিরে যাওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর।

ক্রিকেটারদের এই উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ECB) এবং পেশাদার ক্রিকেটারদের সংগঠন প্রফেশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (PCA) পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি জরুরি বৈঠক করেছে। বর্তমানে সাতজন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার পিএসএলের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে খেলছেন। এই তালিকায় রয়েছেন জেমস ভিন্স, টম কারান‌, স্যাম বিলিংস, ক্রিস জর্ডান, ডেভিড উইলি, লুক উড এবং টম কোহলার ক্যাডমোর। ক্রিকেটারদের পাশাপাশি কয়েকজন ইংরেজ কোচও পিএসএলের সঙ্গে যুক্ত আছেন, যার মধ্যে রবি বোপারা এবং অ্যালেজান্দ্রা হার্টলের নাম উল্লেখযোগ্য।

ইংল্যান্ডের একটি নামী সংবাদপত্রের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, পিএসএলে খেলা অনেক ইংরেজ ক্রিকেটারই এখন পাকিস্তানে থাকার বিকল্প ব্যবস্থা বা দেশে দ্রুত ফিরে আসার কথা ভাবছেন। বিদেশি প্লেয়ারদের এক এজেন্ট জানান যে, ‘অপারেশন সিঁদুর’এর পর একাধিক ক্রিকেটার বিচলিত এবং চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট এজেন্ট বলেছেন, “এখনও পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাকই চলছে। তবে পরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি আবার কিছু (গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা) ঘটে, তাহলে প্রায় সবাই পাকিস্তান ছাড়তে চাইবে।”

উল্লেখ্য, পিএসএলের গ্রুপ পর্বের খেলা ১১ মে শেষ হবে এবং ফাইনাল আগামী ১৮ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। একই সময়ে ভারতেও আইপিএল চলছে, যেখানে ১০ জন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার অংশ নিচ্ছেন। আইপিএলের ফাইনাল ২৫ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও ভারতেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু পাকিস্তানে চলমান সামরিক উত্তেজনা ক্রিকেটারদের মধ্যে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি পিএসএলে বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে। বিসিসিআই এবং পিসিবি উভয়কেই এই সংবেদনশীল পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে এবং ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।