‘অপারেশন সিঁদুরে’র দিনেই ২৬ মাওবাদীকে খতম করল CRPF, সেনাদের বড় সাফল্য

আন্তর্জাতিক সীমান্তে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে জঙ্গি দমনে বড় সাফল্য আসার পাশাপাশি, দেশের অভ্যন্তরেও মাওবাদী দমনে এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। বুধবার তেলঙ্গানা ও ছত্তিসগড় সীমানায় কারেগুট্টা পাহাড় সংলগ্ন গভীর জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে অন্তত ২৬ জন মাওবাদী সদস্য নিহত হয়েছে। চলতি বছরে মাওবাদী দমনে যতগুলি অভিযান হয়েছে, ফলাফলের নিরিখে এটি তার মধ্যে সবথেকে বড় সাফল্য।
এই মাওবাদী দমন অভিযানটি ছত্তিসগড়ের বিজাপুর জেলায় গত ২১ এপ্রিল শুরু হয়েছিল। প্রায় ২০ হাজার নিরাপত্তারক্ষী এই বিশাল অভিযানে যুক্ত ছিলেন। কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (CRPF) এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিল। এছাড়াও ছত্তিসগড় পুলিশ এবং স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)-ও এতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। টানা ১৮ দিন ধরে চলা এই জটিল অভিযানের পরেই বুধবার এই বড় সাফল্য আসে। সিআরপিএফ-এর ডিরেক্টর জেনারেল জি পি সিং স্বয়ং ১৯ এপ্রিল থেকে রায়পুর এবং জগদলপুরে উপস্থিত থেকে অভিযানের সমন্বয় করছিলেন বলে জানা গেছে।
সিআরপিএফ-এর এক আধিকারিক সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, এই অভিযানে চার জন মহিলা মাওবাদী সদস্য সহ মোট ২৬ জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম এবং একটি ছোটখাটো অস্ত্র তৈরির ফ্যাক্টরির সন্ধান পাওয়া গেছে। মাওবাদীদের অস্ত্র ও পরিকাঠামোর জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা।
তবে এই অভিযানে বেশ কয়েক জন নিরাপত্তারক্ষীও আহত হয়েছেন বলে সিআরপিএফ-এর তরফে জানানো হয়েছে। দুই দিন আগেই মাওবাদীদের পেতে রাখা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED)-এর বিস্ফোরণে সিআরপিএফ-এর এক কোবরা অফিসার একটি পা হারিয়েছেন। এ ছাড়াও বেশ কয়েক জন নিরাপত্তারক্ষী অল্প বিস্তর আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গেছে। বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার জন্য অভিযানের সময় প্রতিদিন বৈঠকও হয়েছে।
সব মিলিয়ে ৭ মে দিনটি ভারত এবং দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য একটি বড় সাফল্যের দিন হিসেবে চিহ্নিত হল – একদিকে আন্তর্জাতিক সীমান্তে জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে মাওবাদী দমনে বড়সড় সাফল্য। এই অভিযান দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষায় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতাকে আবারও প্রমাণ করল।