“ভারত ঝামেলা চায় না, তবে পাকিস্তান অশান্তি পাকালে…?”-স্পষ্ট বার্তা দিলেন অজিত দোভাল

মঙ্গলবার-বুধবার গভীর রাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সফল অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর সীমান্ত পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত উত্তপ্ত। পহেলগাম জঙ্গি হামলার বদলা হিসেবে ভারত এই প্রত্যাঘাতের কথা জানিয়েছে। এই অভিযানের পর যদি পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়া বা নতুন করে কোনও আঘাত হানার চেষ্টা করে, তবে ভারত চুপ থাকবে না – এমন স্পষ্ট এবং কড়া বার্তা দিয়েছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। অন্যদিকে, এই অভিযানকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সরকারি মহলে দেখা দিয়েছে কিছুটা দিশাহারা অবস্থা এবং বিপরীত সুর।

ভারতের অবস্থান ও অভিযানের বিস্তারিত তথ্য:

‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে এদিন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি, কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ও উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে ভিডিও প্রকাশ করে দেখানো হয় যে, এই অভিযানে ভারতীয় সেনা শুধুমাত্র পাক জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকেই লক্ষ্যবস্তু করেছিল। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নিখুঁত পরিকল্পনা অনুযায়ী এই টার্গেটগুলি নির্ধারিত করা হয়েছিল। পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যে ২৪টি স্ট্রাইকের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। সেনা সূত্রে জানানো হয়, এই ঘাঁটিগুলি থেকেই ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশ এবং পহেলগামের মতো ভয়াবহ হামলা চালানো হতো। সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, এই অভিযানের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করা। কোনো পাক সাধারণ নাগরিক বা পাক সেনা এই অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হননি বলেও দাবি করা হয়েছে।

অজিত দোভালের কড়া বার্তা:

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সাফ জানিয়েছেন, ভারত আগ বাড়িয়ে পাকিস্তানের উপর আঘাত হানবে না ঠিকই, তবে পাকিস্তানের তরফে যদি কোনও আঘাত করা হয়, তাহলে ভারত আর চুপ করে থাকবে না। তিনি কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। দোভালের সতর্কবার্তা স্পষ্ট – পাকিস্তান যদি ‘ভুলেও’ কোনো ‘ঢিল’ মারে, তাহলে তারা ‘পাটকেল’ নিশ্চিতভাবেই পাবে। ভারত বিভিন্ন দেশের বিদেশ সচিবদের সামনেও এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে নয়াদিল্লি অহেতুক উত্তেজনা ছড়াবে না, তবে উস্কানি দেওয়া হলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

পাকিস্তানের বিপরীত সুর ও প্রত্যাঘাতের নির্দেশ:

অন্যদিকে, ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর কার্যত দিশাহারা অবস্থা পাকিস্তানের। তাদের সরকারি মহলে শোনা যাচ্ছে কিছুটা বিপরীত সুর। একদিকে পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কার্যালয় থেকে সেনাকে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বদলা নিতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, তো অন্যদিকে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে কিছুটা মিটমাটের সুর। আসিফ বলেছেন, “ভারত আগ বাড়িয়ে আর কিছু না করলে শত্রুতার পথে যাবে না পাকিস্তান।”

তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-কে ‘বিনা উস্কানিতে, কাপুরুষোচিত এবং বেআইনি যুদ্ধ পদক্ষেপ’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এতে ‘নিরীহ পাকিস্তানি’রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দাবি করে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পাক সেনাকে।

পাক প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশে সীমান্তে ফের যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর যদি পাকিস্তান ফের কোনোভাবে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করে, তবেই ভারত পাল্টা জবাব দিতে এগোবে। পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে পাকিস্তানের পরবর্তী পদক্ষেপের উপর। নয়া দিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ভারত প্রস্তুত রয়েছে যেকোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য।