‘আর কারও সিঁদুর যেন না মোছে…’, কাঁদতে কাঁদতে বললেন বিতানের স্ত্রী

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নিরীহ পর্যটকদের উপর বর্বরোচিত জঙ্গি হামলার যোগ্য জবাব দিল ভারত। ধর্ম জিজ্ঞাসা করে বেছে বেছে ছাব্বিশ জন পর্যটককে নৃশংসভাবে হত্যার পর অবশেষে তার প্রতিশোধ নিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে কমপক্ষে ৯টি শক্তিশালী জঙ্গি ঘাঁটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে ভারতীয় সেনা কমান্ডোরা। এই অভিযানে প্রায় ১০০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ভারতের এই কঠোর পদক্ষেপের খবর প্রকাশ্যে আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পহেলগাঁও হামলায় প্রাণ হারানো বিতান অধিকারীর স্ত্রী। ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেছেন, সরকার তাঁদের বিচার দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে। ফ্লোরিডার বাসিন্দা বিতান অধিকারী তাঁর স্ত্রী এবং একমাত্র সন্তানকে নিয়ে সেখানে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ভ্রমণই তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায় হয়ে দাঁড়ায়। জঙ্গিরা সেখানে হামলা চালিয়ে পর্যটকদের ধর্ম জানতে চায় এবং শুধুমাত্র ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বেছে বেছে হত্যা করে। স্ত্রী ও সন্তানদের চোখের সামনেই পুরুষদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এই পৈশাচিক হামলায় ছাব্বিশ জন নিরপরাধ পর্যটক প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে ছিলেন বিতান অধিকারীও।

কলকাতায় ফিরে বিতানের স্ত্রী সেই ভয়াবহ দিনের বর্ণনা দিয়ে জানিয়েছিলেন, কীভাবে ধর্মের জিঘাংসা তাঁর স্বামীকে কেড়ে নিয়েছে। চোখের সামনেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল তাঁকে। এই নৃশংসতার পর থেকেই গোটা দেশ এই হামলার উপযুক্ত জবাব চেয়েছিল। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার ঘটনার পরেই জানিয়েছিল, “যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।” সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেই ঘটনার মাত্র পনেরো দিনের মধ্যেই ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানে ঢুকে এই দুঃসাহসিক অভিযান চালায় এবং জঙ্গি নেটওয়ার্কের বড়সড় ক্ষতি করে।

সেনাবাহিনীর এই সফল অভিযানের খবর যখন পহেলগাঁও হামলায় সদ্য স্বামী হারানো বিতান অধিকারীর স্ত্রীর কানে পৌঁছায়, তখন তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল আবেগময়। প্রতিশোধ পূর্ণ হয়েছে জেনে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। অশ্রুসিক্ত নয়নে তিনি বলেন, “আমি সরকারের কাছে জাস্টিস চেয়েছিলাম। ভারত সরকার অ্যাকশন নিয়েছে। এটা শুনে কিছুটা শান্তি পেয়েছি।” তবে তাঁর সেই কান্নার মধ্যে ছিল ভবিষ্যতের আর্তিও। তিনি কাতর কণ্ঠে বলেন, “আমার একটাই প্রার্থনা, ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও স্ত্রীর সিঁদুর এভাবে মুছে না যায়। সরকার যাতে এই জঙ্গিদের প্রতি আরও কঠোর হয়। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আর যেন কোনও স্ত্রী বা সন্তানকে দেখতে না হয়।” ভারতীয় সেনার এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে, তেমনই জঙ্গিদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।