“৪ মাসে ৩ জনের রহস্যমৃত্যু”-IIT খড়্গপুরে ফের অস্বাভাবিক মৃত্যু, উদ্ধার যুবকের ঝুলন্ত দেহ

পশ্চিমবঙ্গের আইআইটি খড়্গপুরে আবারও এক মেধাবী ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকালে হোস্টেলের ঘর থেকে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত ছাত্রের নাম মহম্মদ আসিফ কামার। এই নিয়ে গত চার মাসের মধ্যে আইআইটি খড়্গপুরে তিনজন পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুতে ক্যাম্পাসে এবং শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

মহম্মদ আসিফ কামার ছিলেন আইআইটি খড়্গপুরের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের একজন ছাত্র। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসিফ ইনস্টিটিউটের মদন মোহন মালব্য হলের এসডিএস ব্লকের ১৩৫ নম্বর ঘরে থাকতেন। তার সহপাঠীরা জানান, শনিবার রাত থেকেই আসিফের রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় তারা নিরাপত্তা কর্মী ও পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ আইআইটি ক্যাম্পাসের মধ্যে অবস্থিত হিজলি ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা এসে রুমের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং আসিফকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এরপর দেহ উদ্ধার করে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, আসিফ বিহারের শিওহর জেলার গারাহিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

আইআইটি সূত্রে খবর, আসিফ কামার সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটির জন্য তিনি বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। নিজের ব্যাগপত্র গুছিয়েও রেখেছিলেন। বাড়ি যাওয়ার ঠিক আগে এমন চরম সিদ্ধান্ত কেন নিলেন, তা নিয়ে গভীর রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা পুলিশের একটি সূত্র থেকে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। সূত্রটি জানিয়েছে, আসিফ নাকি ভিডিও কলে দিল্লির এক তরুণীর সঙ্গে কথা বলার সময়ই আত্মহত্যা করেন। ওই তরুণীই প্রথম আইআইটি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। তরুণীর কাছ থেকে খবর পাওয়ার পরই আইআইটির নিরাপত্তাকর্মীরা এবং আসিফের সহপাঠীরা তার ঘরের দরজা খোলার জন্য বারবার চেষ্টা করেছিলেন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার এই বিষয়ে বলেছেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি। সেই সূত্র ধরেই ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।” পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।