দিঘার জগন্নাথ মন্দির দর্শনে যাবেন ভাবছেন? জেনে নিন কীভাবে পৌঁছবেন ও কোথায় থাকবেন?

বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে সাড়ম্বরে উদ্বোধন হয়ে গেল দিঘার নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরের। অক্ষয় তৃতীয়ার শুভ তিথিতে, গতকাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে দেব বিগ্রহের প্রাণ প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়েছে। সমুদ্র সৈকতের জনপ্রিয় উইকএন্ড ডেস্টিনেশন দিঘার এই নতুন সংযোজন ঘিরে পর্যটকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যারা এই মন্দির দর্শনে যেতে ইচ্ছুক, তাদের সুবিধার্থে রইল মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছনোর বিভিন্ন পথ এবং নিকটবর্তী থাকার জায়গার বিস্তারিত সুলুক সন্ধান।

দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে পৌঁছনোর বিভিন্ন রুট:

ট্রেন পথে:
হাওড়া স্টেশন থেকে প্রতিদিন তিনটি ট্রেন দিঘা পর্যন্ত চলাচল করে। এগুলি হল – সকাল ৬টা ৪০ মিনিটের তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস, সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের দুরন্ত এক্সপ্রেস এবং দুপুর ২টো ৪০ মিনিটের কাণ্ডারি এক্সপ্রেস। দিঘা থেকে কলকাতার দিকে ফেরার জন্য এই ট্রেনগুলি ছাড়ে যথাক্রমে সকাল ১০টা ২৫, দুপুর ১টা ৩৫ এবং সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে।

হাওড়া ছাড়াও শালিমার স্টেশন থেকেও দিঘাগামী ট্রেন পরিষেবা রয়েছে। এছাড়াও, পুরী থেকে প্রতি বুধবার ও শনিবার রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে একটি ট্রেন দিঘা আসে। মালদা টাউন থেকে একটি বিশেষ ট্রেন প্রতি শনিবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে দিঘার উদ্দেশ্যে ছাড়ে এবং বিশাখাপত্তনম থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে একটি ট্রেন দিঘায় পৌঁছয়। ট্রেনের কোচ এবং পরিষেবা অনুযায়ী টিকিটের খরচ মাথাপিছু ১০৫ টাকা থেকে ৭৬০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

এই ট্রেনগুলির যে কোনো একটিতে চেপে দিঘা স্টেশনে নেমে সেখান থেকে ১১৬বি জাতীয় সড়ক ধরে ওল্ড দিঘার দিকে প্রায় ৫০০ মিটার হাঁটলেই আপনি জগন্নাথ মন্দিরে পৌঁছে যেতে পারবেন। এছাড়া, যারা পাঁশকুড়া-দিঘা লাইনের ট্রেনে আসছেন, তারাও দিঘা স্টেশনে নেমে হেঁটে মন্দিরে যেতে পারেন।

বাস পথে:
কলকাতা থেকে বাসে চেপে দিঘা যেতে সময় লাগে প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। ধর্মতলা বাস ডিপো থেকে প্রতিদিন সরকারি এবং বেসরকারি অসংখ্য বাস দিঘার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সকাল ৬টা থেকে এই বাস পরিষেবা শুরু হয়। ধর্মতলা ছাড়াও গড়িয়া, দমদম, খড়্গপুর, দুর্গাপুর, আসানসোল, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর থেকেও দিঘাগামী বাস পাওয়া যায়। সরকারি এসি বাসের ভাড়া প্রায় ১৪৫-১৫০ টাকা এবং বেসরকারি এসি বাসের ভাড়া ৫০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। যারা বাসে আসবেন তাদের নন্দকুমার-দিঘা ১১৬ বি জাতীয় সড়ক ধরে এসে নামতে হবে। ওল্ড দিঘা গেটে নেমে প্রায় ৩ কিলোমিটার হাঁটলেই মন্দিরে পৌঁছনো যায়। নিউ দিঘা বাস ডিপোতে নামলে সেখান থেকে হেঁটে শনি মন্দিরের সামনে দিয়ে প্রায় ২ কিলোমিটার গেলেই জগন্নাথ মন্দিরের দেখা মিলবে।

সড়ক পথে (নিজস্ব গাড়ি):
নিজস্ব গাড়িতেও খুব সহজেই দিঘা জগন্নাথ মন্দিরে পৌঁছনো সম্ভব। ওল্ড দিঘার মূল রাস্তার উপর দিয়ে অথবা বাইপাস ব্যবহার করে দু’দিক দিয়েই মন্দিরে যাওয়া যায়। বাইপাস ধরে গেলে দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের কার্যালয়ের পাশে পরিবহণ দপ্তরের ডিপোর কাছাকাছি এসে নামতে হবে, সেখান থেকে হেঁটে মন্দিরে যেতে হবে। প্রাইভেট গাড়ি পার্ক করার জন্য দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের মাঠ এবং নিউ দিঘার হেলিপ্যাড ময়দানে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। কলকাতা থেকে প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার এই পথ পাড়ি দিতে গাড়ির জ্বালানি এবং টোল মিলিয়ে খরচ পড়তে পারে ৩৫০০ টাকার কাছাকাছি এবং সময় লাগতে পারে প্রায় ৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।

মন্দিরের আশেপাশে পর্যটন কেন্দ্র এবং থাকার ব্যবস্থা:

জগন্নাথ মন্দিরের কাছে পর্যটকরা নিউ দিঘার জনপ্রিয় অমরাবতী পার্ক ঘুরে দেখতে পারেন। এছাড়াও কাছাকাছি রয়েছে মেরিন স্টেশন এবং দিঘার অ্যাকোরিয়াম। যারা জগন্নাথ মন্দির দর্শনের জন্য আসছেন এবং কাছাকাছি থাকতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য মন্দির এবং গেটের আশেপাশে ৫৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৪৫০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন মানের হোটেল উপলব্ধ রয়েছে। ফলে পর্যটকদের থাকা নিয়ে বিশেষ চিন্তার কারণ নেই। দিঘার এই নতুন আধ্যাত্মিক ও স্থাপত্যের নিদর্শন ঘিরে পর্যটন শিল্পে নতুন জোয়ার আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।