বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণীর মাংস খাওয়ার অভিযোগে আইনি জটিলতায় ‘লাপতা লেডিজ’-এর মঞ্জু বাঈ

২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া জনপ্রিয় ছবি ‘লাপতা লেডিজ’-এ ‘মঞ্জু বাঈ’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক মহলে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছিলেন অভিনেত্রী ছায়া কদম। তাঁর সাবলীল অভিনয় এবং বিশেষ করে একটি সংলাপ – ‘মানুষ একা থাকার মজাটা একবার পেয়ে গেলে আর কারও সঙ্গে থাকতে চায় না’ – দারুণভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। তবে এবার এই অভিনেত্রী এক গুরুতর বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন, যার জেরে তাঁকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে।
সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি ও অভিযোগ:
মুম্বইয়ের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘প্ল্যান্ট অ্যান্ড অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ (PAWS)-এর অভিযোগের ভিত্তিতে মহারাষ্ট্রের বন দফতর ছায়া কদমকে সমন পাঠিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, অভিনেত্রী ছায়া কদম একটি সাক্ষাৎকারে নিজে স্বীকার করেছেন তিনি একাধিক বিলুপ্তপ্রায় এবং সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর মাংস খেয়েছেন। যে প্রাণীগুলির মাংস খাওয়ার কথা তিনি বলেছেন, তার মধ্যে রয়েছে মাউস ডিয়ার, খরগোশ, বন্য শুয়োর, গোসাপ এবং সজারু।
আইনি জটিলতা ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন:
ভারতের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন, ১৯৭২ অনুযায়ী উল্লিখিত প্রাণীগুলি সংরক্ষিত তালিকার অন্তর্ভুক্ত এবং এদের শিকার করা বা এদের মাংস খাওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই বিষয়ে প্ল্যান্ট অ্যান্ড অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামক সংস্থাটি ঠানের চিফ কনজারভেটর অব ফরেস্টস এবং ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে।
বন দফতরের পদক্ষেপ ও অভিনেত্রীর প্রতিক্রিয়া:
অভিযোগ পাওয়ার পর মহারাষ্ট্রের বন দফতর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অভিনেত্রী ছায়া কদমকে সমন পাঠিয়েছে। শুধু অভিনেত্রী নন, এই অপরাধে জড়িত সম্ভাব্য চোরাশিকারি ও বন্যপ্রাণীর মাংস সরবরাহকারীদের খোঁজেও তদন্ত ও তল্লাশি শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। তদন্তকারী আধিকারিকদের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁরা ছায়া কদমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তিনি এই মুহূর্তে পেশাগত কাজে শহরের বাইরে রয়েছেন এবং চার দিনের মধ্যে মুম্বই ফিরে এসে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। জানা গেছে, এই আইনি জটিলতা থেকে বের হতে তিনি ইতিমধ্যেই আইনি পরামর্শ নেওয়াও শুরু করেছেন। এই ঘটনা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন এবং তার প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।