হলুদ ছেড়ে লাল, ফুটে উঠবে এবার ব্রাজিল তারকারা, অসুন্তষ্ট প্রিয়ভক্তরা

ফুটবল মানেই যেন হলুদ জার্সি আর পেলের দেশ ব্রাজিল। দশকের পর দশক ধরে হলুদ হোম জার্সি এবং নীল অ্যাওয়ে জার্সিই ব্রাজিলের ফুটবলীয় ঐতিহ্যের প্রতীক। কিন্তু আগামী ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে এই ঐতিহ্য ভেঙে অ্যাওয়ে জার্সির রং নীল থেকে ক্রিমসন বা লাল করার একটি প্রস্তাব ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে ব্রাজিল এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে।

সিবিএফ-এর প্রস্তাব ও বিতর্ক:

ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (CBF) সম্প্রতি ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য জাতীয় দলের অ্যাওয়ে জার্সির রং পরিবর্তনের এই প্রস্তাব দিয়েছে। ১৯৫৮ সাল থেকে ব্রাজিলের অ্যাওয়ে জার্সির রং নীল। এই দীর্ঘদিনের পরিচিতি বদলের প্রস্তাবই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক রঙের ছোঁয়া:

এই বিতর্কের মূলে রয়েছে প্রস্তাবিত লাল রঙের রাজনৈতিক তাৎপর্য। লাল রং ব্রাজিলের বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা, তাঁর নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টি (PT) এবং দেশটির অন্যতম প্রধান ভূমিহীন কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ফলে ফুটবল জার্সির রং পরিবর্তন নিছক খেলাধুলার বিষয় না থেকে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

রাজনীতিবিদ ও ভক্তদের প্রতিক্রিয়া:

ব্রাজিলের রাজনৈতিক মহলেও এই নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ঘনিষ্ঠ এবং মিনাস জেরাইসের গভর্নর রোমেউ জেমা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “আমাদের দলের জার্সি কখনোই লাল হবে না, আমাদের দেশও না।”

সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরাও সিবিএফ-এর এই প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট। তাদের কাছে হলুদ ও নীল জার্সি ব্রাজিলের ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং আবেগ। এই ঐতিহ্যকে রাজনৈতিক রঙের প্রভাবে পরিবর্তন করার চেষ্টা অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের ফুটবল জার্সি নিয়ে শুরু হওয়া এই বিতর্ক বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছে। সিবিএফ-এর এই প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।