ভারত-পাক ‘যুদ্ধ’ উত্তেজনা, লড়াইয়ের আশঙ্কায় আগেভাগেই ফসল কাটছে গ্রামবাসীরা!

জম্মু ও কাশ্মীরের পাহালগামে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জম্মু-কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনিয়ে এসেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পাশাপাশি, গ্রামবাসীরা নিজেদের জীবন রক্ষার জন্য বাঙ্কার প্রস্তুত রাখছেন এবং অনিশ্চয়তার ভয়ে আগেভাগেই ফসল কেটে নিচ্ছেন।
সীমান্তে যুদ্ধের প্রস্তুতি
বর্তমানে জম্মু-কাশ্মীরের আন্তর্জাতিক সীমান্ত (IB) এবং নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) সংলগ্ন গ্রামগুলোতে এক ধরনের যুদ্ধের প্রস্তুতির মতো পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আরএস পুরা সেক্টরের ত্রেভা গ্রামের প্রাক্তন সরপঞ্চ বলবীর কউর বলেন, “কী হবে, কেউ জানে না! তাই বাঙ্কারগুলো ঝাঁটপোঁছ করছি, যাতে গোলাগুলি শুরু হলে নিরাপদে থাকতে পারি।” কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই হাজার হাজার ব্যক্তিগত ও কমিউনিটি বাঙ্কার নির্মাণ করেছিল। এখন এই বাঙ্কারগুলো পুনরায় প্রস্তুত ও ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। গ্রামবাসীরাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেনার সঙ্গে একত্রিত হয়ে সীমান্ত রক্ষায় কাজ করছেন।
পাহালগাম হামলার রেশ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সংঘর্ষবিরতির চুক্তি কার্যকর থাকলেও, পাহালগামে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছে (খবরে প্রকাশ)। এর ফলে সীমান্তে ফের উত্তেজনার ছায়া নেমে এসেছে। সবাই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং নিজেদের মতো করে সুরক্ষার ব্যবস্থা করছেন। ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত ৩,৩২৩ কিমি জুড়ে বিস্তৃত। এর মধ্যে ২২১ কিমি আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং ৭৪৪ কিমি নিয়ন্ত্রণরেখা জম্মু ও কাশ্মীরে অবস্থিত। ২০০৩ সালে যুদ্ধবিরতির চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, বাস্তবে বহুবার তা লঙ্ঘিত হয়েছে। বিশেষ করে ২০২০ সালে ৫,০০০-রও বেশি বার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছিল।
মানুষের আতঙ্ক ও প্রতিক্রিয়া
এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীদের প্রতিক্রিয়াও তাৎপর্যপূর্ণ। ত্রেভা গ্রামের কৃষক সেবা রাম বলেন, “আমরা ফসল কেটে রাখছি যাতে যুদ্ধ হলে খাদ্যের অভাব না হয়। আমরা অস্ত্রহীন সৈনিক, নিজেদের রক্ষা করাই আমাদের দায়িত্ব।” পুঞ্চের সালোত্রি গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ ফারুকের বক্তব্য, “পরিস্থিতি উত্তপ্ত, তবে আমরা ভারতীয় সেনার পাশে আছি। পাকিস্তানকে এবার কঠোর শিক্ষা দিতে হবে।”
ভারতের কঠোর বার্তা ও পাল্টা পদক্ষেপ
ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে যে যারা সন্ত্রাসে মদত দেয়, তাদের বিরুদ্ধে নিশ্চিতভাবে প্রতিশোধ নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বিষয়ে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। ভারতের পাল্টা পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে (খবরে উল্লিখিত): সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতকরণ, আটারি সীমান্ত বন্ধ এবং পাকিস্তানের সাথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বন্ধ করা।
সব মিলিয়ে, সীমান্ত অঞ্চলের মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, কিন্তু নিজেদের এবং দেশের সুরক্ষায় তারা প্রস্তুতি নিতে পিছপা হচ্ছেন না।