“ভারত-পাকিস্তান উভয়ই কাছের, তবে…?”-পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা নিয়ে যা বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ভারত-পাক সম্পর্ক নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি এই হামলার নিন্দা জানান এবং এটিকে ‘খুব খারাপ আক্রমণ’ বলে উল্লেখ করেন।
এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ভারত ও পাকিস্তান তাদের নিজস্ব স্তরে এই পরিস্থিতির সমাধান করবে। তিনি বলেন, “আমি ভারতের খুব কাছের এবং পাকিস্তানেরও…। কাশ্মীর নিয়ে দু’দেশের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে লড়াই চলছে। কাশ্মীর সমস্যা বছরের পর বছর ধরেই আছে। যে সন্ত্রাসবাদী হামলাটি ঘটেছে তা খুব খারাপ, খুবই খারাপ।” কাশ্মীর সমস্যা এবং ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তর দেন, “বছরের পর বছর ধরে ওই সীমান্তে উত্তেজনা রয়েছে। সবসময় এরকমই ছিল। কিন্তু আমি নিশ্চিত যে তারা যেকোনওভাবে এর সমাধান খুঁজে পাবে। আমি দুই নেতাকেই চিনি, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অনেক উত্তেজনা রয়েছে।”
এর আগে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফোনেও কথা বলেছিলেন। সেই সময় তিনি সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দা করেছিলেন এবং ভারতকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি এই ‘জঘন্য হামলার’ দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে ভারতের সমর্থনের আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) জম্মু ও কাশ্মীরের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বৈসরন উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদীরা গুলি করে ২৬ জনকে হত্যা করে। এই হামলাটিকে প্রায় দু’দশকের মধ্যে কাশ্মীরে সবচেয়ে মারাত্মক হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। এই হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কে তীব্র অবনতি ঘটেছে।
পহেলগাঁও হামলার পর ভারত সরকার ‘অ্যাকশন মোডে’ এসে বেশ কয়েকটি কঠোর কূটনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর মধ্যে রয়েছে পাঞ্জাবের আটারিতে ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট (ICP) বন্ধ করে দেওয়া, পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য SAARC ভিসা অব্যাহতি প্রকল্প (SVES) স্থগিত করা এবং উভয় দেশের হাইকমিশনে কর্মকর্তাদের সংখ্যা হ্রাস করা। এছাড়াও, ভারত ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জল চুক্তিও স্থগিত করেছে। শুক্রবার ভারতীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, ভারত নিশ্চিত করবে যে সিন্ধু নদীর এক ফোঁটাও জল অপচয় না হয় বা পাকিস্তানে না পৌঁছয়।
পহেলগাঁও হামলার পর আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য সেই আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ারই একটি অংশ।