SSC ভবনের সামনে থেকে অবস্থান তুলে নিচ্ছেন চাকরিহারারা, এবার শ্রেণিকক্ষে ফিরছেন একাংশ

পাঁচ দিন ধরে টানা অবস্থান বিক্ষোভ চলার পর অবশেষে কলকাতা এসএসসি (SSC) ভবনের সামনে থেকে অবস্থান–ঘেরাও প্রত্যাহার করে নিলেন চাকরিহারা শিক্ষকরা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি বাতিল হওয়া ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের একাংশের আগামী সোমবার থেকে স্কুলে ফেরার খবরের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী দু’দিন অর্থাৎ শনিবার এবং রবিবার শহিদ মিনারের কাছে অবস্থান করে তাঁরা আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা তৈরি করবেন। এর মধ্যে যদি যাবতীয় নথিপত্রের কাজ শেষ না হয়, তবে বিকাশ ভবন অভিযানের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
চাকরিহারাদের এই অবস্থান প্রত্যাহারের পেছনে একাধিক কারণ উঠে এসেছে। একদিকে যেমন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর রাজ্য সরকার কর্তৃক কিছু ‘যোগ্য’ প্রার্থীকে স্কুলে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তেমনই আন্দোলনের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সংঘাতও এর একটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। শনিবার এবং রবিবার শহিদ মিনারের সামনে অবস্থান থেকেই এর পরের কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আন্দোলনকারীদের একাংশ জানিয়েছে, আংশিক দাবি পূরণ হয়েছে বলে গরমের ছুটির আগে পর্যন্ত ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা স্কুলে যাবেন। তবে ‘যোগ্য’ হয়েও এখনও যাঁদের নাম এসএসসি’র তালিকায় আসেনি, তাঁদের অধিকারের লড়াইয়ের জন্য আন্দোলন জারি থাকবে বলে জানিয়েছেন চাকরিহারা শিক্ষকরা।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে এসএসসি দফতরের সামনে চাকরি ফিরে পাওয়া ‘যোগ্য’ এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি বাতিল হওয়া ‘অযোগ্য’দের মধ্যে তীব্র বচসা এবং হাতাহাতি শুরু হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এই বিষয়ে চাকরিহারা শিক্ষক সুমন বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের আন্দোলনকারী চিন্ময় মণ্ডলকে মারধর করা হয়েছে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা এই অবস্থান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছি। এটা শুধুমাত্র নিরাপত্তার জন্য তুললাম।”
উল্লেখ্য, যোগ্য শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের দাবি তুলে গত সোমবার থেকে চাকরিহারা শিক্ষকরা এসএসসি ভবনের সামনে এই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। কিন্তু রাজ্য সরকার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ না করে শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে জেলা পরিদর্শকদের (DI) একটি তালিকা পাঠানো হয় যেখানে স্কুলে যোগ দিতে পারবেন এমন যোগ্যদের নাম রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু আগেই জানিয়েছিলেন, এভাবে সকলের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের মূল দাবি ছিল যোগ্য–অযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতেই হবে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায় শুধু নিয়োগ বাতিলের ছিল, যোগ্য–অযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের সরাসরি নির্দেশ ছিল না। এই পরিস্থিতিতে আজ শুক্রবার এসএসসি ভবন থেকে অবস্থান তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন চাকরিহারারা।
এই বিষয়ে সুমন বিশ্বাসের বক্তব্য, “সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী শিক্ষকদের একদিনের জন্য হলেও স্কুলে ফেরা উচিত। আমি সোমবার স্কুলে যাব। রাজ্য সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে। সুপ্রিম কোর্টের যে রায় সেটাকে মান্যতা দেবো।”
আন্দোলনের অন্যতম মুখ চিন্ময় মণ্ডলের কথায়, বৃহস্পতিবার রাতের হাতাহাতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমরা অযোগ্যদের সঙ্গে হাতাহাতির ভয়ে সরে যাচ্ছি এমনটা নয়। আমরা চাই না, অযোগ্যদের সঙ্গে আমাদের কোনও ঝামেলা হোক। তাই আমরা এখান থেকে সরে যাচ্ছি।” তিনি আরও জানান, যোগ্যদের যে তালিকা স্কুলে পাঠানো হয়েছে, সেখানে যোগ্যদের অন্তত ৩০০ জনের নাম নেই। এসএসসি সংশোধন করবে বলে তাদের মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে এসএসসি ভবনের সামনের পাঁচ দিনের অবস্থান আপাতত অন্য রূপে শহিদ মিনারে স্থানান্তরিত হচ্ছে।