“পাঞ্জাব নিরাপদ না হলে ভারতের মহৎ স্বপ্ন ধ্বংস হবে!” নীতি আয়োগের বৈঠকে মোদীকে প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি ভগবন্ত মানের

“একটি সুরক্ষিত ও সমৃদ্ধ পাঞ্জাব ছাড়া ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘উন্নত ভারত’ গড়ার স্বপ্ন কোনোদিনও বাস্তবায়িত হতে পারে না!”—নীতি আয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের মেগা বৈঠকে ঠিক এই ভাষাতেই কেন্দ্রীয় সরকারের সামনে পাঞ্জাবের দাবিদাওয়া ও বঞ্চনার খতিয়ান জোরালোভাবে তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। দেশের স্থিতিশীলতা ও সুরক্ষার স্বার্থে পাঞ্জাবকে অবিলম্বে “বিশেষ শ্রেণীর রাজ্য” (Special Category State) মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সাথে পার্বত্য বা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মতো পাঞ্জাবেও সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ৯০:১০ অনুপাতে অর্থায়নের দাবি তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, পাকিস্তানের সাথে ৫৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকায় পাঞ্জাব মূলত জাতীয় নিরাপত্তার প্রথম ঢাল হিসেবে কাজ করছে। ফলে রাজ্যটিকে প্রতিনিয়ত আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ, ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহ এবং সীমান্ত পারের মাদক পাচারের মতো গুরুতর চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যা সরাসরি পাঞ্জাবের যুবসমাজকে বিপন্ন করছে।কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘সীমান্ত বৈষম্য’ ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতির বিস্ফোরক খতিয়ানবৈঠকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সীমান্ত এলাকার প্রতি চরম বৈষম্যের অভিযোগ এনেছেন ভগবন্ত মান। তিনি তথ্য দিয়ে জানান:ভাইব্রেন্ট ভিলেজ প্রকল্পে বঞ্চনা: পাঞ্জাবের সীমান্তে ২,০০০-এরও বেশি গ্রাম ও শহর থাকা সত্ত্বেও, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ-২’ প্রকল্পে মাত্র ১০৭টি গ্রামকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কয়েক দশক ধরে সীমান্ত জেলাগুলোতে বিনিয়োগের অভাব এবং শিল্প চলে যাওয়ার কারণে সার্বিক উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়েছে।২০২৫ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যা: গত ২০২৫ সালের ভয়াবহ বন্যায় পাঞ্জাবের ২,৩০০-রও বেশি গ্রাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে রাজ্যটির প্রায় ১২,৯০৫ কোটি টাকার ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি হলেও কেন্দ্র থেকে পর্যাপ্ত সাহায্য মেলেনি।দিল্লির মডেল এবার পাঞ্জাবে: স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় দেশসেরাকেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তোলার পাশাপাশি আম আদমি পার্টি (AAP) শাসিত পাঞ্জাব সরকারের অভূতপূর্ব সাফল্যের খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। নীতি আয়োগের মঞ্চে তিনি জানান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে পাঞ্জাব এখন দেশের রোল মডেল।খাতঅর্জিত সাফল্য ও মেগা প্রজেক্টমুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্য প্রকল্পপ্রতি পরিবারকে বছরে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসা। দেশের ৯০০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এই সুবিধা চালু।আম আদমি ক্লিনিকরাজ্যে ৯৯০টি ক্লিনিক সফলভাবে সচল। যেখানে ১০৭টি ওষুধ ও ৪৭ ধরনের পরীক্ষা সম্পূর্ণ ফ্রি। ইতিমধ্যেই ৫৫ কোটিরও বেশি রোগী সেবা নিয়েছেন।শিক্ষা ব্যবস্থা ২০২৬নীতি আয়োগের ‘শিক্ষার গুণগত মান প্রতিবেদন – ২০২৬’-এ পাঞ্জাব দেশের সেরা স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।মাদকবিরোধী যুদ্ধমাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ৫৪৭টি ওয়ান-স্টপ ক্লিনিক ও ১৮৩টি নিরাময় কেন্দ্র চালু। ‘স্কুলস এগেইনস্ট ড্রাগস’ প্রকল্পের আওতায় ৮ লক্ষ শিক্ষার্থীকে সচেতন করা হচ্ছে।মোহালিকে ভারতের ‘সেমিকন্ডাক্টর মেগা-ক্লাস্টার’ করার প্রস্তাবভবিষ্যতের প্রযুক্তিতে ভারতকে বিশ্বসেরা করতে মোহালিকে ‘জাতীয় জ্ঞান ও শিক্ষা কেন্দ্র’ হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন ভগবন্ত মান। তিনি মোহালিতে একটি ‘সমন্বিত সেমিকন্ডাক্টর মেগা-ক্লাস্টার’ স্থাপনের জন্য কেন্দ্রের কাছে একটি মাস্টারপ্ল্যান পেশ করেন।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মোহালির বিদ্যমান সেমিকন্ডাক্টর ল্যাবরেটরি (SCL), দক্ষ জনশক্তি ও শক্তিশালী পরিকাঠামো ভারতকে চিপ উৎপাদনে বিশ্বশক্তি বানাতে পারে। এসসিএল (SCL)-এর আধুনিকীকরণের জন্য কেন্দ্রের ঘোষিত ৪,৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগকে মোহালিতেই কাজে লাগানোর দাবি জানান তিনি। পরিশেষে তিনি মনে করিয়ে দেন, পাঞ্জাবের এই দাবিগুলো কেবল কোনো আঞ্চলিক দাবি নয়, বরং তা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং ‘উন্নত ভারত’ গড়ার স্বপ্নের সাথে সরাসরি জড়িত।