২৬০ লাশের মাঝে একা বেঁচে থাকা! এয়ার ইন্ডিয়া ট্র্যাজেডির ১ বছর পর কী নারকীয় সত্য ফাঁস করলেন বিশ্বাস?

সময়টা ছিল ২০২৫ সালের ১২ই জুন। আহমেদাবাদ থেকে ২৪২ জন যাত্রী ও ক্রু নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করেছিল এয়ার ইন্ডিয়া’র এআই-১৭১ (AI-171) বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি। কিন্তু ওড়ার মাত্র ৩২ সেকেন্ডের মাথায় মাঝআকাশে ঘটে যায় এক নারকীয় বিপর্যয়। বি জে মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে আছড়ে পড়ে বিমানটি। বিমানে থাকা ২৪১ জন এবং মাটিতে থাকা ১৯ জনসহ নিমেষেই কয়লা হয়ে যান ২৬০ জন মানুষ!

আজ সেই বুকফাটা দুর্ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলো। এই মহাধ্বংসযজ্ঞের মাঝে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি—বিশ্বাস কুমার রমেশ। কিন্তু এক বছর পর আজ কেমন আছেন তিনি?

“মানুষ শুধু আমার বেঁচে থাকা দেখেছে, বন্ধ দরজার পেছনের নরক দেখেনি!”
দুর্ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় ধ্বংসস্তূপ থেকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে আসা বিশ্বাসের ছবি বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়েছিল। রাতারাতি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার হেডলাইন হয়েছিলেন এই গুজরাটি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। কিন্তু এক বছর পূর্তিতে ডেইলিয়ান্ট-এর কাছে মনের ভেতরের জমাট বাঁধা অন্ধকার প্রকাশ করলেন তিনি।

তার ভাষায়:

“মানুষ শুধু দেখেছে আমি বেঁচে গেছি। কিন্তু বন্ধ দরজার আড়ালে প্রতিটা রাতে আমি যে কী ভয়াবহ লড়াই করি, তা কেউ দেখে না। আমি এখনো ঘুমাতে পারি না। চোখ বন্ধ করলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই যন্ত্রণার মুহূর্ত।”

বিশ্বাস আরও জানান, সেই অভিশপ্ত ফ্লাইটে তাঁর সাথে ছিলেন তাঁর ভাই অজয়ও। ভারতে পরিবারের সাথে দেখা করে তারা দুজনে লন্ডনে ফিরছিলেন। কিন্তু অজয় আর ফেরেননি। বিশ্বাস বলেন, “চারপাশে যখন জ্ঞান ফিরল, দেখলাম শুধু লাশ আর লাশ! আমি আতঙ্কে চিৎকার করে কোনোমতে ওই নরক থেকে ছুটে পালিয়েছিলাম। শরীর সুস্থ হলেও মনের ক্ষত আমাকে রোজ পুড়িয়ে মারছে।” স্বজনরা জানিয়েছেন, এক সময়ের প্রাণোচ্ছল বিশ্বাস এখন তীব্র মানসিক ট্রমা ও বিষণ্ণতায় ভুগে নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নিয়েছেন।

তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়: ককপিটে কে বন্ধ করেছিল সুইচ?
দুর্ঘটনার এক বছর পূর্তিতে তদন্তকারীদের কাছ থেকে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। ব্লাক বক্স ও প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্টে যা উঠে এসেছে, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো।

কী ঘটেছিল সেই শেষ ৩২ সেকেন্ডে?

ভয়াবহ যান্ত্রিক ত্রুটি: উড্ডয়নের মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিমানের দুটি ইঞ্জিনেরই জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচ আচমকা ‘রান’ (Run) অবস্থান থেকে ‘কাটঅফ’ (Cutoff) অবস্থানে চলে যায়। এর ফলে মাঝআকাশেই ইঞ্জিন দুটিতে তেল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

ককপিটের রহস্যময় কথোপকথন: তদন্ত রিপোর্টে ককপিটের শেষ মুহূর্তের যে অডিও পাওয়া গেছে, তা রহস্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সেখানে শোনা যায়, একজন পাইলট চিৎকার করে অন্যজনকে জিজ্ঞেস করছেন, “তুমি কেন জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করলে?” অপর পাইলট জবাবে বলেন, “আমি তো কিছুই করিনি!”

তাহলে মাঝআকাশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কীভাবে বন্ধ হলো ড্রিমলাইনারের ইঞ্জিন? এটি কি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য? তদন্তকারীরা খুব শীঘ্রই এই দুর্ঘটনার চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ করতে যাচ্ছেন। ২৬০টি পরিবারের কান্নার অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত সত্য কবে সামনে আসবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।