বিশেষ: দ্বিতীয় বারেই UPSC-তে ৭৯ ব়্যাঙ্ক মেঘনার, ৫ বারের ব্যর্থতা শেষে সাফল্য পেলো পারমিতাও

অদম্য জেদ, কঠোর অধ্যবসায় এবং লক্ষ্যে অবিচল থাকলে যে কোনো বাধাই অতিক্রম করে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন বাংলার দুই কৃতী তনয়া। সর্বভারতীয় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার (ইউপিএসসি) ঘোষিত ফলাফলে ৭৯ র্যাঙ্ক অর্জন করে রাজ্যে নজির গড়েছেন মেঘনা চক্রবর্তী এবং ৪৭৭ ব়্যাঙ্ক পেয়েছেন পারমিতা মালাকার। দুজনেই তাঁদের লড়াই এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করেছেন বহু তরুণ-তরুণীকে।
সাফল্যের পথ মেঘনা বা পারমিতা, কারও জন্যই মসৃণ ছিল না। মেঘনা চক্রবর্তী তাঁর প্রথমবার ইউপিএসসির প্রিলিমিনারি পরীক্ষাতেই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। কিন্তু সেই ব্যর্থতায় থেমে না থেকে দ্বিগুণ উদ্যমে প্রস্তুতি নিয়ে দ্বিতীয় প্রচেষ্টাতেই তিনি বাজিমাত করেন এবং সর্বভারতীয় স্তরে ৭৯ র্যাঙ্ক লাভ করেন।
মেঘনার বাড়ি কলকাতার সল্টলেকের এ–কে ব্লকে। এর আগে তাঁরা মুম্বইয়ে থাকতেন। সিক্স থেকে কলকাতার মডার্ন হাইস্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ইতিহাসে স্নাতক এবং পরে পলিটিক্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস নিয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন ২০২২ সালে। স্নাতকোত্তরের পরেই ২০২৩ সালে তিনি প্রথমবার ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসলেও সফল হননি। নিজের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, “আমি রোজ ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছি। ফোন ঘাঁটা থেকে নিজেকে দূরে রাখতাম।” সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসতে যাওয়া aspiran tদের জন্য তাঁর পরামর্শ, “প্রথমত, কী করছি এবং কেন করছি — এই বিষয়ে খুব স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রত্যেকবার এটাই লাস্ট চান্স ধরে নিয়ে এগোতে হবে। তৃতীয়ত, কীভাবে সময় বার করবেন এবং কখন কী করবেন, অর্থাৎ টাইম ম্যানেজ করা জানা অত্যন্ত জরুরি।”
অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহের বাসিন্দা পারমিতা মালাকারের লড়াইয়ের গল্প আরও দীর্ঘ এবং চমকপ্রদ। পদার্থবিদ্যায় স্নাতক হওয়ার পর তিনি একটি আইটি কোম্পানিতে সাত বছর কাজ করেন। এরপর একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের চাকরিতে যোগ দেন। ২০১৯ সাল থেকে তিনি ইউপিএসসি-তে বসা শুরু করেন। টানা চার বছর তিনি প্রিলিমিনারি পরীক্ষাতেই অকৃতকার্য হন। পঞ্চম বারের চেষ্টাতেও তিনি মাত্র ৪ নম্বরের জন্য প্রিলিমিনারিতে সফল হতে পারেননি। কিন্তু এত ব্যর্থতার পরেও তিনি আশা হারাননি। ২০২৩ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় তিনি সফল হন এবং ৮১২ র্যাঙ্ক নিয়ে রেভেনিউ সার্ভিসে যোগ দেন। কিন্তু তাঁর আসল লক্ষ্য ছিল আইএএস হওয়া, তাই তিনি থেমে থাকেননি। ২০২৪ সালের পরীক্ষায় তিনি আরও উন্নত র্যাঙ্ক (৪৭৭) অর্জন করে নিজের লক্ষ্যের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, “ব্যর্থতা বাধা হতে পারে কি না, তা নির্ভর করে সম্পূর্ণভাবে নিজের উপরে। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। পেলাম না বলে বসে থেকে কাঁদলে চলবে না।”
মেঘনা চক্রবর্তী এবং পারমিতা মালাকারের এই অদম্য লড়াইয়ের কাহিনি প্রমাণ করে যে, ইউপিএসসির মতো কঠিন পরীক্ষায় সাফল্য পেতে শুধু মেধা নয়, প্রয়োজন অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর নিয়মানুবর্তিতা এবং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা। তাঁদের এই সাফল্য বাংলার হাজার হাজার ইউপিএসসি aspirant কে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও লড়াই চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।