“গুলিতে ঝাঁঝরা CISF জওয়ান”-ঝাড়খণ্ড-বাংলা সীমানার শেষ গ্রামে অন্ধকারে তুমুল দুষ্কৃতী তাণ্ডব

পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের সীমানার কাছে দুষ্কৃতীদের গুলিতে এক সিআইএসএফ (CISF) জওয়ানের মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার, পশ্চিম বর্ধমানের সালানপুর থানার অন্তর্গত ঝাড়খণ্ড-বাংলা সীমানার শেষ গ্রাম ডোমদহা এলাকার উপর ডাঙায়। গুলিতে গুরুতর আহত ওই জওয়ানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। কী কারণে দুষ্কৃতীরা ওই জওয়ানের উপর হামলা চালিয়েছে, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, মৃত সিআইএসএফ জওয়ানের নাম সুনীল কুমার পাসোয়ান। তিনি ঝাড়খণ্ডের মেহিজাম বাড়ুই পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই সিআইএসএফ কর্মী ব্যক্তিগত কাজে তাঁর নিজের কেনা একটি জায়গা দেখার জন্য ওই এলাকায় এসেছিলেন। সেই সময়ই কেউ বা কারা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় বলে অনুমান। পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে যে, মাথায় গুলি করা হয়েছিল।

ঘটনার পর স্থানীয় গ্রামবাসীরা গুলি চলার আওয়াজ পান এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশ আধিকারিকরা। রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় সিআইএসএফ জওয়ান সুনীল কুমার পাসোয়ানকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাঁকে দ্রুত জেলা হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে তদন্তকারীরা একটি বাইক এবং কিছু মদের বোতল উদ্ধার করেছেন। এছাড়াও, যেখানে গুলি লেগেছিল সেখানে মাটিতে প্রচুর রক্তের দাগ মিলেছে। এই সমস্ত আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে এবং কেন সিআইএসএফ জওয়ান সুনীল কুমার পাসোয়ানকে গুলি করে হত্যা করল, তার কারণ এখনও পুলিশের কাছে স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে দ্রুত খুঁজে বের করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই ঘটনা সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা এবং দুষ্কৃতীদের কার্যকলাপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশ খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।