“কাউকে ছাড়ব না আমরা”-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নেমেই হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২৮ জন নিরীহ পর্যটকের উপর ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপত্যকায় পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পহেলগাঁওয়ে পৌঁছে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, সন্ত্রাসবাদের কাছে ভারত কোনওভাবেই মাথানত করবে না এবং এই হামলার অপরাধীদের কোনও অবস্থাতেই রেহাই দেওয়া হবে না। এর আগে তিনি শ্রীনগরে পৌঁছে হামলায় নিহতদের প্রতি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই বার্তা পুনরাবৃত্তি করেন। এর পরে তিনি পহেলগাঁওয়ের বাইসারনের ঘটনাস্থলে পৌঁছন।

তদন্তে ধর্মীয় হত্যা ও বর্বরতার তথ্য:

পহেলগাঁও হামলার পর পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য এই হামলাটির ভয়াবহতার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। তদন্তে জানা যাচ্ছে, জঙ্গিরা ধর্ম জেনে বেছে বেছে পর্যটকদের ওপর গুলি চালিয়েছে। নিহত এক যুবকের স্ত্রী জানিয়েছেন, হামলাকারীরা পর্যটকদের নাম জিজ্ঞাসা করে তাদের ধর্ম পরিচয় যাচাই করে নিচ্ছিল এবং হিন্দু ধর্ম জানতে পারার পরেই এতজন মানুষকে গুলি করা হয়েছে। তিনজন জঙ্গি পর্যটকদের এক জায়গায় জড়ো করে পুরুষ ও মহিলাদের আলাদা করে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে এবং তারপর গুলি চালায়। কিছু লোককে দূর থেকে আবার কিছু লোককে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বেশিরভাগ লোক অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মারা যান। এই হামলায় পাকিস্তানি ও স্থানীয় কাশ্মীরি সন্ত্রাসবাদীরা যৌথভাবে জড়িত ছিল। জানা গেছে, জঙ্গিরা হেলমেট লাগানো ক্যামেরা পরে ছিল যাতে তারা ঘটনার পুরো দৃশ্য ভিডিও করতে পারে।

কেন টার্গেট ছিল বাইসারান ভ্যালি?

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, উদ্ধারকাজে সময় লাগবে এবং হতাহতের সংখ্যা সর্বাধিক হবে জেনেই ইচ্ছাকৃতভাবে পহেলগাঁওয়ের বাইসারান ভ্যালিকে বেছে নেওয়া হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। এটি একটি বিখ্যাত পর্যটন স্পট, যা ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত। বাইসারানকে আক্রমণের জন্য বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ ছিল এই নির্দিষ্ট এলাকায় কোনও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন ছিল না।

জঙ্গিদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি ও প্রযুক্তি:

হামলাকারী জঙ্গিরা বাইসারানের জঙ্গল ব্যবহার করে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং তারা লুকোনোর জন্য ঘন জঙ্গলে আস্তানা তৈরি করেছিল। স্থানীয় জঙ্গিদের সাহায্যে তারা সম্ভবত এখন তাদের অবস্থানও পরিবর্তন করে ফেলেছে। তাদের খোঁজে নিরাপত্তা বাহিনী বর্তমানে পহেলগাঁওয়ের জঙ্গলে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। এলাকায় সক্রিয় মোবাইল নম্বরগুলির বিবরণ জানতে পুলিশ টেলিকম কোম্পানিগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। পাল্টা হামলার জন্য বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং ঘন বন ও পাহাড়ে জঙ্গিদের খুঁজে বের করার জন্য উন্নত প্রযুক্তি যেমন উন্নত রাডার ব্যবহার করা হচ্ছে, যা লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের গতিবিধি শনাক্ত করতে পারে।

এই সকল তথ্যের আলোকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘সন্ত্রাসবাদের কাছে মাথানত নয়’ এবং ‘অপরাধীদের রেহাই নেই’ বার্তাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি নিহত ও জখম ১৭ জনের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।