তৃণমূলের অন্দরে চরম সংঘাত! ৬৭৬ কোটির অ্যাকাউন্ট নিয়ে অরূপ বিশ্বাসের চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপে তোলপাড়

তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) অন্দরে ক্রমশ গভীর হচ্ছে রাজনৈতিক সংকট। দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সম্প্রতি এমন এক পদক্ষেপ নিয়েছেন যা রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। অরূপ বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখে দলের বিশাল অঙ্কের—প্রায় ৬৭৬ কোটি টাকা—একটি অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে জব্দ করার আবেদন জানিয়েছেন। অরূপ বিশ্বাসের এই আচমকা পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে চরম অনাস্থা ও আশঙ্কার বাতাবরণ। তিনি দাবি করেছেন, দলের বিদ্রোহী নেতাদের একাংশ তাঁর স্বাক্ষরিত চেক ব্যবহার করে দলের এই বিপুল অর্থ আত্মসাৎ বা অপব্যবহার করতে পারেন। এই আশঙ্কায় তিনি ব্যাংকের শরণাপন্ন হয়ে অ্যাকাউন্টটি ফ্রিজ করার আর্জি জানান।
তবে, তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব অরূপ বিশ্বাসের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অনধিকারচর্চা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দলের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অরূপ বিশ্বাস এখন আর তৃণমূল কংগ্রেসের কোষাধ্যক্ষ পদে বহাল নেই। গত ৫ই জুন অনুষ্ঠিত দলের এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তাঁকে এই পদ থেকে সরিয়ে নতুন কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ করা হয়েছে। অরূপ বিশ্বাসের এই কর্মকাণ্ডকে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল বলে মনে করছেন অনেকেই। উল্লেখ্য, অরূপ বিশ্বাস অতীতেও নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন। ক্রীড়ামন্ত্রী থাকাকালীন লিয়োনেল মেসিকে কলকাতায় আনার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। এমনকি, সাম্প্রতিক অতীতে আদালতে হাজিরা দেওয়ার সময় আইনজীবীদের একাংশ তাঁর দিকে ডিম ছুড়ে মারলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
এই অভ্যন্তরীণ ডামাডোলের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সাংগঠনিক কাঠামোতে ব্যাপক রদবদল এনেছে। দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে গৃহীত এই রদবদলকে রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তরুণ নেতা অর্ণব ব্যানার্জীকে রাজ্য তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়েছে। উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুনাল ঘোষকে। এছাড়া, মোশাররফ হোসেনকে সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি এবং আলিফা আহমেদকে মহিলা শাখার সভানেত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। দলের অন্দরের এই বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে এবং নতুন মুখদের সামনে রেখে জনভিত্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এই বড়সড় রদবদল করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত। একদিকে অরূপ বিশ্বাসের মতো প্রবীণ নেতার বিবাদ, অন্যদিকে নতুন নেতৃত্বের দায়িত্বভার—তৃণমূলের অন্দরের এই সমীকরণ আগামী দিনের রাজনীতিতে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।