বিনা হিজাবে গান গেয়েই বিপত্তি! ইরানি গায়িকাকে ৭৫টি বেত্রাঘাতের নির্দেশ, তোলপাড় বিশ্বজুড়ে

ইরানের রক্ষণশীল শাসনে ফের এক অমানবিক ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের নজির তৈরি হলো। দেশটির এক ফৌজদারি আদালত প্রখ্যাত প্রথাগত গায়িকা ও সুরকার পরস্তু আহমদী এবং তাঁর প্রযোজনা দলের আট সদস্যকে বেত্রাঘাতের মতো পৈশাচিক সাজা শুনিয়েছে। কুম প্রদেশের আদালতের এই নির্দেশ অনুযায়ী, পরস্তু আহমদী এবং তাঁর প্রতিটি সহযোগীকে ৭৪টি করে বেত্রাঘাত করা হবে। একইসঙ্গে আগামী দুই বছরের জন্য তাঁদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরণের সঙ্গীত বা শিল্পকলা সংক্রান্ত কার্যকলাপে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপট গত বছরের ডিসেম্বরে পরস্তর ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচারিত একটি ভার্চুয়াল কনসার্ট। ইরানের দেইর-এ গাচিন কারওয়ানসরাই-এর মতো এক ঐতিহাসিক স্থানে আয়োজিত এই ‘ইমাজিনারি কনসার্ট’-এ পরস্তু হিজাব ছাড়াই পারফর্ম করেছিলেন। তাঁর পরনে ছিল স্লিভলেস কালো পোশাক। সেখানে তিনি বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গান ‘আয খুনে জাওয়ানানে ওয়াতান’ পরিবেশন করেন। যদিও এই কনসার্টে কোনো সরাসরি দর্শক ছিল না, তবুও ভিডিওটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হতেই ইরানি প্রশাসন একে “অশ্লীল ও অনৈতিক” আখ্যা দেয়। এর পরেই গায়িকা ও তাঁর টিমের সদস্যদের আটক করা হয়েছিল।

পরস্তু আহমদী বরাবরই ইরানের দমনমূলক নীতির বিরুদ্ধে সরব। ১৯৯৭ সালে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী ২০২২ সালে মাসা আমিনীর মৃত্যুর পর শুরু হওয়া ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে সমর্থন জানিয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই তিনি শাসনের রক্তচক্ষুর শিকার হন। তাঁর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়। মানবাধিকার আইনজীবীদের মতে, ইরানের আইন অনুযায়ী মেয়েদের গান গাওয়া বা সুর করা কোনো অপরাধ নয়। তবুও, একে ‘অশ্লীল কন্টেন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করে এই রায় দেওয়া মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক স্তরে এই রায়ের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন মানবাধিকার কর্মীরা। ইরানি-ব্রিটিশ অভিনেত্রী নাজনিন বোনিয়াদি এই রায়কে শাসনব্যবস্থার নিষ্ঠুরতার প্রতিফলন বলে অভিহিত করেছেন। পরস্তর এই প্রতিবাদী সুর যে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছে, তা এই চরম শাস্তিই প্রমাণ করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *