পহেলগাঁওয়ে হামলায় পাকিস্তান যোগ? অবশেষে মুখ খুললেন খাজা আসিফ

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের ওপর বর্বরোচিত জঙ্গি হামলার পর অবশেষে প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ সরকার এক বিবৃতিতে এই হামলার সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে এবং সব ধরণের সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করেছে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “ভারতের অবৈধভাবে দখলকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলায় হামলায় পর্যটকদের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।” একই সুর শোনা গেছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের গলাতেও। একটি পাকিস্তানি সংবাদ চ্যানেলের সাথে কথা বলতে গিয়ে তিনি শুধু এই হামলার সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক অস্বীকার করেইনি, এটিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেও উল্লেখ করেছেন।
তবে খাজা আসিফ তাঁর বক্তব্যে আরও একধাপ এগিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, এই হামলার পেছনে ভারতেরই লোকজন জড়িত থাকতে পারে। তাঁর বক্তব্য, ভারতের নাগাল্যান্ড, মণিপুর এবং কাশ্মীরের মতো অঞ্চলে মানুষ সরকারের উপর ক্ষুব্ধ, আর সেই ক্ষোভ থেকেই এমন ঘটনা ঘটছে।
পাকিস্তানের এই প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই অনেক প্রশ্ন তুলেছে, কারণ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফোর্স’ (টিআরএফ) নামে একটি গোষ্ঠী, যা পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই তৈবার সাথে যুক্ত বলে পরিচিত। হামলার দায় স্বীকার করেও পাকিস্তানের এই নিজেদের আলাদা করে দেখানোর চেষ্টা এবং উল্টো ভারতের উপর দোষ চাপানোর কৌশল সমালোচনার মুখে পড়েছে।
এদিকে, হামলার পর পহেলগাঁওয়ের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। গোটা এলাকা জুড়ে এখন ইন্ডিয়ান আর্মি মোতায়েন রয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি ঘরে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন বলে জানা গেছে। শহরের দোকানপাট ও বাজার সম্পূর্ণ বন্ধ। সর্বত্র পুলিশের কড়া নজরদারি। নিরাপত্তার কারণে পর্যটকদের সকাল ১০টার মধ্যে পহেলগাঁও ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গত ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত জঙ্গিরা হামলার আগে উপত্যকার একাধিক পর্যটন কেন্দ্রে রেইকি (নজরদারি) চালিয়েছিল। বিভিন্ন রিসর্টে ঘুরে শেষ পর্যন্ত তারা পহেলগাঁওয়ের বৈসরন ভ্যালির একটি রিসর্টকে বেছে নেয়। হামলার দিন দুপুরে ৬ থেকে ৭ জন জঙ্গি সেখানে হাজির হয়। তারা দু’তিনটি দলে ভাগ হয়ে যায় এবং প্রায় ৪০ থেকে ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, জঙ্গিরা পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত করে তবেই পর্যটকদের নিশানা করেছিল। এই নৃশংস হামলায় ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২০ জনের বেশি এখনও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন সুপরিকল্পিত ও ধর্মের ভিত্তিতে বেছে বেছে চালানো হামলার দায় পাকিস্তানের অস্বীকার করা এবং উল্টো ভারতের দিকে আঙুল তোলা তাদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।