” অনশনের ৪৪ ঘণ্টা পার”-অসুস্থ এক Group C-কর্মী স্থানান্তরিত হলেন হাসপাতালে

নিজেদের বেতন ও পদে ফেরানোর দাবিতে কঠোর অনশনে বসেছেন ‘যোগ্য’ গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি শিক্ষাকর্মীরা। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নিবেদিতা ভবনের ভিতরে চলছে তাঁদের এই অবস্থান ও অনশন কর্মসূচি। বুধবার সকাল পর্যন্ত এই অনশন প্রায় ৪৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। এরই মধ্যে অনশনকারীদের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কৌশিকরঞ্জন মণ্ডল নামে ওই গ্রুপ সি কর্মীকে চিকিৎসার জন্য বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মূল দাবি এবং ক্ষোভ:

অনশনকারীদের মূল দাবি হলো, আদালতের নির্দেশে যাঁরা যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন, সেই গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের অবিলম্বে সবেতনে তাঁদের পুরনো পদে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাঁরা জানিয়েছেন, ৪৪ ঘণ্টা অনশন পার হয়ে গেলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তরফে তাঁদের সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগ করা হয়নি বা তাঁদের দাবি নিয়ে কোনও বার্তা আসেনি। অনশনকারীদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ হলো, এসএসসির একটি নোটিসের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পেরেছেন যে, ‘টেনটেড’ নন এমন শিক্ষকরা এই মাসের (এপ্রিল, ২০২৫) বেতন পেলেও, ‘যোগ্য’ নন-টিচিং স্টাফ হিসেবে তাঁরা বেতন পাবেন না।

আমরণ অনশনের হুঁশিয়ারি:

নিবেদিতা ভবনের ভিতরে বসে অনশনকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, “আমরা নন-টিচিং স্টাফ বলেই কি আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে? আমাদের বেতন চাই। একই সঙ্গে, যোগ্য-অযোগ্যের তালিকাও দ্রুত প্রকাশ করতে হবে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কী ভাবে আমাদের ফিরিয়ে আনা হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা আমাদের দিতে হবে।” তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাঁদের এই দাবিগুলো পূরণ না হলে এই আমরণ অনশন কর্মসূচি চলবে।

অসুস্থ অনশনকারীকে হাসপাতালে স্থানান্তর:

অনশন চলাকালীন বুধবার সকালে কৌশিকরঞ্জন মণ্ডল নামে এক গ্রুপ সি কর্মী অসুস্থ বোধ করেন। খবর পেয়ে প্রথমে এসএসসি ভবনের সামনে অবস্থিত অভয়া মঞ্চের এক চিকিৎসক জল, ORS এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে নিবেদিতা ভবনের ভিতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। প্রবেশ নিয়ে কিছুটা সমস্যা হলেও পরে তিনি ভিতরে যেতে সক্ষম হন। এরপর বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালের একজন চিকিৎসকও ঘটনাস্থলে আসেন এবং অসুস্থ কৌশিকরঞ্জনকে পরীক্ষা করেন। চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বুঝে তাঁকে পুলিশের অ্যাম্বুল্যান্সে করে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

যোগ্য নন-টিচিং কর্মীদের বেতন ও পদ ফেরানোর দাবিতে নিবেদিতা ভবনের ভিতরের এই অনশন এবং অসুস্থ কর্মীর হাসপাতালে স্থানান্তরের ঘটনায় পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন আন্দোলনকারীরা।