‘বান’ মারার সন্দেহে দাদার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল সৎ ভাই, চাঞ্চল্য ডোমকলে

একবিংশ শতাব্দীতেও কুসংস্কারের অন্ধকার! ডোমকলের মধুরকুলে ‘বান’ বা গুণ-তন্ত্রের মতো অমানবিক বিশ্বাসে ভর করে দাদার উপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে সৎ ভাইয়ের বিরুদ্ধে। বাবাকে ‘বান’ মারার সন্দেহে নিফাজ শেখ নামের এক ব্যক্তিকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর সৎ ভাই আরব শেখের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিফাজ ও আরব শেখের বাবার শারীরিক অবস্থা বেশ কিছুদিন ধরেই খারাপ। এই অসুস্থতা নিয়ে পরিবারের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক না ডেকে আনা হয় কবিরাজকে। সেই কবিরাজের কথাতেই পরিবারের একাংশের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে – নিফাজই নাকি ‘বান’ মেরেছে তাঁর বাবাকে! এই সন্দেহের বশেই শনিবার সন্ধ্যায় দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। অভিযোগ, এরপরই আরব শেখ হাতাহাতি শুরু করে এবং পরে নিফাজকে ব্যাপক মারধর করে।
নিফাজের পরিবারের অভিযোগ, কোনও রকম প্রমাণ ছাড়াই তাঁর সৎ মা ও ভাই পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ফাঁসাতে চাইছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন নিফাজের স্ত্রী ও পিসি। একবিংশ শতীতে দাঁড়িয়েও ‘বান’ বা গুণ-তন্ত্রের মতো কুসংস্কারে বিশ্বাস করে এমন বর্বরোচিত ঘটনা স্তম্ভিত করেছে এলাকাবাসীকে।
অন্যদিকে, সচেতনতা প্রচার সত্ত্বেও থামছে না পথ দুর্ঘটনা। ফের দুই তরতাজা যুবকের মর্মান্তিক পরিণতি ঘটেছে নদীয়ার রানাঘাট থানা এলাকার নপাড়া মাসুন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। রবিবার সকালে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মৃত দুই যুবকের নাম নক্ষত্র বিশ্বাস এবং প্রসেনজিৎ ঘোষ। পরিবার সূত্রে খবর, গতকাল দুই বন্ধু বাইক নিয়ে চড়কের মেলা দেখতে গিয়েছিল। এরপর আজ সকালে পরিবার খবর পায় যে ওই দুই যুবক রাস্তার ধারে মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তড়িঘড়ি পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ শনাক্ত করে এবং পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে রানাঘাট পুলিশ মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। তবে এটি নিছক পথ দুর্ঘটনা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে রানাঘাট থানার পুলিশ।