“ওঁরাই ঘণ্টা বাজান, স্কুল খোলেন–বন্ধ করেন”-শিক্ষাকর্মীদের ‘ভবিষ্যৎ’ নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রধান শিক্ষকরা

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি হারানো তথাকথিত ‘যোগ্য’ শিক্ষাকর্মীরা এবার রাস্তায় নামলেন। শুক্রবার কলকাতার পার্ক সার্কাস থেকে মিছিল করে তৃণমূল ভবনে যান গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি কর্মীরা। সেখানে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে দেখা করে তাঁদের উদ্বেগের কথা জানান তারা।

যোগ্য শিক্ষাকর্মীদের প্রতিনিধি সুজয় সর্দার বলেন, “শিক্ষকদের মতো আমাদের মধ্যেও যোগ্য ও অযোগ্য কর্মী রয়েছে। অযোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষকরা যদি ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে যেতে পারেন, তাহলে যোগ্য শিক্ষাকর্মীরা কেন সেই সুযোগ পাবেন না? এই রায় অমানবিক।”

উল্লেখ্য, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সুপ্রিম কোর্টে ‘নন-টেস্টেড’ শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষাকর্মীদের চাকরি বহাল রাখার আবেদন করেছিল। তবে আদালত শুধুমাত্র শিক্ষকদের বিষয়টি বিবেচনা করে, শিক্ষাকর্মীদের বাদ দেয়। প্রধান বিচারপতি ডি.ওয়াই. চন্দ্রচূড় বলেন, “এই নিয়োগেই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। স্কুলগুলিকেই কর্মী সংকট মেটানোর উপায় খুঁজে নিতে হবে।”

শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
শিক্ষাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার পর শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “আইনি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। এখনই কোনো মন্তব্য করা আদালতের অবমাননার শামিল।” তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট আশ্বাস দেননি।

স্কুলগুলিতে সংকট তীব্র
শিক্ষাকর্মীদের অনুপস্থিতিতে রাজ্যের বহু স্কুলে ব্যবস্থাপনা বিপর্যস্ত। কলকাতা থেকে জেলার স্কুলগুলোতে প্রশ্ন উঠছে—কর্মী ছাড়া কীভাবে স্কুল চলবে? গ্রুপ-সি ও ডি কর্মীরা স্কুলের গেট খোলা, ঘণ্টা বাজানো, অফিসিয়াল কাজ সামলান।

শিলিগুড়ির নেতাজি গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রুম্পা সাহা বলেন, “এখন মাত্র একজন গ্রুপ-সি কর্মী আছেন। প্রতিদিনের কাজ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি।”

জলপাইগুড়ির গড়ালবাড়ি হাইস্কুলে একমাত্র গ্রুপ-সি কর্মীও চাকরি হারিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক মদন সরকার এখন ক্লার্কের কাজও করছেন।

বীরভূমের মর্জাৎপুর হাইস্কুল কর্মীশূন্য হয়ে পড়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুভাষচন্দ্র কোনাই বলেন, “কম্পিউটার কাজের জন্য প্রাক্তন কর্মীকে ডেকে আনতে হয়।”

প্রধান শিক্ষক সমিতির আবেদন
পশ্চিমবঙ্গ প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণাংশু মিশ্র স্কুলশিক্ষা কমিশনারকে চিঠি দিয়ে ক্যাজুয়াল কর্মী নিয়োগের জন্য ভাতার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা, “কর্মী না পেলে স্কুল ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়বে।”

কী হবে ভবিষ্যতে?
দ্রুত সমাধান না হলে স্কুলগুলির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা শিক্ষক ও অভিভাবক মহলের।