“একটু বয়সে বিয়ে করলে সেই বিয়ের মাধুর্য আলাদা হয়”- ‘বিবাহিত’ দিলীপকে যা যা পরামর্শ দিলেন মদন

দিলীপ ঘোষের বিয়েতে শুভেচ্ছার ঢল নেমেছে। আর সেই তালিকায় যোগ দিলেন মদন মিত্রও। তবে অন্যরকম ভাবে। আরতি মুখোপাধ্যায় থেকে মান্না দে, রবি ঠাকুর – দিলীপ ঘোষকে বিয়ের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে গানে গানে মাতলেন মদন মিত্র। শুধু গান নয়, ছড়াও কাটলেন তিনি। মদনের সাফ কথা, “একটু লেট হল। তবে চিন্তা করবেন না! একটু বয়সে বিয়ে করলে সেই বিয়ের মাধুর্য আলাদা হয়।” ২১ তারিখে ‘বৌদিকে’ নিয়ে দিলীপকে ইডেনে কেকেআরের খেলা দেখতে আসার অনুরোধও জানালেন তিনি। একমুখ হাসি নিয়ে মদন বললেন, “এই বিয়েটা বিজেপিতে একটা সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে।”
টিভি৯ বাংলার এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে দিলীপ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে গানে গানেই প্রেমের দোলা লাগালেন ‘কালারফুল’ মদন। হাসতে হাসতেই বললেন, “বহু জায়গায় বাচ্চা ছেলেমেয়েরা স্লোগান দিচ্ছে, গান গাইছে। চাঁদ উঠেছে, ফুল ফুটেজে, কদমতলায় কে/ বাড়িতে আছে হুলো বেড়াল, কোমর বেঁধেছে/ সবাই মিলে আয়রে তোরা আজ আমাদের দিলীপ বাবুর বিয়ে!” এরপরই দিলীপের উদ্দেশ্যে তাঁর পরামর্শ, “একটু বয়সে বিয়ে করলে সেই বিয়ের মাধুর্য আলাদা হয়। কারণ অল্প বয়সে বিয়ের গুরুত্ব অতটা বোঝা যায় না। বড় বয়সে বিয়ে করলে দায়িত্ববোধ অনেক বেশি আসে।”
বেশ রসিকতা করেই মদন বলেন, “ওনার স্ত্রী বলছিলেন একুশে পরিচয়, পঁচিশে পরিণয়। এটা শুনে একটা গানের কথা মনে পড়ে গেল।” এরপরই তিনি আরতি মুখোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গান ধরেন, “এক বৈশাখে দেখা হল দু’জনার- জষ্ঠীতে হল পরিচয়। আসছে আষাঢ় মাস, মন তাই ভাবছে- কি হয় কি হয়!” মদনের মতে, “আষাঢ় তো এখনও আসেনি, তাই দিলীপবাবুর মনের মধ্যে একটা কবিতাই বাজছে।” এরপরই তিনি রবি ঠাকুরের সেই বিখ্যাত কবিতা শোনান, “প্রহরশেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস– তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ।” মদন যোগ করেন, “যদিও দিলীপবাবু বলছেন, তিনি তাঁর স্ত্রীর চোখে সর্বনাশ সেই ভাবে দেখেননি। ওনার স্ত্রী ওনাকে এসে প্রপোজ করেছেন। ব্যাপারটা খানিক…” এরপর তিনি মান্না দে-র সেই বিখ্যাত গান ধরেন, “কে প্রথম কাছে এসেছি? কে প্রথম চেয়ে দেখেছি? কিছুতেই পাই না ভেবে কে প্রথম ভালবেসেছি? তুমি, না আমি?”
বিবাহিত দিলীপকে পরামর্শের বন্যা বইয়ে দিয়ে মদন বলেন, “আর আপনি লাঠি বেশি ঘোরাবেন না। এখন যেভাবে আপনি লাঠি ঘোরান, সেটা দেখলে ম্যাডাম ভয় পেয়ে যাবেন। এখন লাঠি ঘোরানো বন্ধ করে বৌদিকে ঘোরান। কাশ্মীর নয়, শিলংও নয়। আন্দামান কী রাঁচিতেও নয়। সব জায়গা ঘোরান। ইস্তানবুল থেকে জাপান, সব ঘোরান। ভাল ভাল রান্না খাওয়ান।” সবশেষে শুভেন্দুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমি জানি না দিলীপ বাবুর বিয়ে দেখে শুভেন্দুর মনে কী কোথাও বাজনা বাজছে! ওর মনে কী হচ্ছে জানি না। কারণ দেখলাম সবাই গিয়েছে, শুভেন্দু যায়নি।”