বাংলাদেশে এবার ইউনূসে বিরক্ত BNP, ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি, ভোট কবে হবে? উঠছে প্রশ্ন

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে। ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে অনড় বিএনপি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। এর জেরে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বুধবার ঢাকার যমুনা রাজ্য অতিথিশালায় দুই ঘণ্টা ধরে বিএনপি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মধ্যে আলোচনা হয়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আলোচনায় অংশ নেয়। আলোচনা শেষে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের জানান, “আমরা একেবারেই সন্তুষ্ট নই। আমরা বারবার বলেছি, নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যেই হতে হবে। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে যেকোনো সময় নির্বাচন হতে পারে। এটা অস্পষ্ট, গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বলেছি, ডিসেম্বরের মধ্যেই ভোট দরকার। তা না হলে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।”
উল্লেখ্য, গত বছর আগস্টে বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। বর্তমানে দেশে ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি’ (এনসিপি) নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠিত হয়েছে, যাদের পেছনে ইউনূসের সমর্থন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই দল নির্বাচনের আগে বিচার ও সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছে।
বিএনপি সংস্কারের বিপক্ষে না হলেও, নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ না করলে সুষ্ঠু গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে বলে মনে করে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “যেহেতু সংস্কার নিয়ে একটা ঐকমত্য তৈরি হচ্ছে, তাহলে এখন আর ভোটের রোডম্যাপ দিতে দেরি করার মানে হয় না। ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন সম্ভব। জনগণ চাইছে ভোট দিতে, তাই আর দেরি করা ঠিক হবে না।”
অন্যদিকে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইনবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার মধ্যে কিছু বিএনপির পক্ষে, কিছু বিপক্ষে গিয়েছে। তবে তারা মনে করেন, বিএনপি সত্যিই সংস্কার নিয়ে আন্তরিক। তিনি বলেন, “নির্বাচন ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে হবে, এটাই বলা হয়েছে। এর মানে এই না যে ইচ্ছা করে দেরি করানো হবে। বরং যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজন করার চেষ্টা চলবে।” প্রধান উপদেষ্টার দফতর থেকে জানানো হয়েছে, “আলোচনা হয়েছে খোলামেলা এবং আন্তরিক পরিবেশে। সব দলের সঙ্গে আলাপ করে একটা গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছনোই আমাদের লক্ষ্য।”
এনসিপি-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসন বিএনপির পক্ষে কাজ করছে। “এমন প্রশাসনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আমরা চাই আগে বিচার হোক, তারপর ভোট,” বলেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সীমা নিয়ে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিএনপি যদি সময়মতো নির্বাচনের নিশ্চয়তা না পায়, তবে তারা আবারও রাজপথে নামতে পারে। অন্যদিকে, সরকার চাইছে ধাপে ধাপে নির্বাচন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে।