“আপনি তো প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না’, হামাগুড়ি…” অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ মমতার

আজ কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইমাম-মোয়াজ্জেম, শিখ ধর্মগুরু ও হিন্দু পুরোহিতদের একমঞ্চে এনে দিলেন সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা। এই বৈঠকেই তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিএসএফকে বিঁধলেন ওয়াকফ আইন ঘিরে রাজ্যে তৈরি হওয়া হিংসার আবহের জন্য।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিলেন, ওয়াকফ নিয়ে কেন্দ্র যে আইন এনেছে, তা বাংলায় মানা হবে না। তিনি বলেন, “মালদা ও মুর্শিদাবাদে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি ও তাদের মদতপুষ্ট বাহিনী। বাংলাদেশ থেকে লোক এনে এই গন্ডগোল করা হয়েছে। আমি জানতে চাই, কেন করলেন এটা আপনারা?”

মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেসকেও ছাড়েননি। মালদার ঘটনার প্রসঙ্গে বলেন, “কংগ্রেস ভোটে জেতে আর অশান্তি হলে জনপ্রতিনিধিরা চুপ করে থাকেন— এটা তো মানা যায় না। যদি এটা তৃণমূল করত, তাহলে তিনজন বিধায়কের বাড়িতে হামলা হতো না।”

তিনি আরও বলেন, “সংসদে শরিকদের ব্যবহার করে ওয়াকফ বিল পাশ করানো হয়েছে, অথচ সংবিধান সংশোধনের কোনও চেষ্টা হয়নি। বিজেপি নিজেদের সুবিধামতো সংবিধানকে উপেক্ষা করছে। ভারতের সংবিধানের ২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। কারও সম্পত্তিতে জোর করে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই।”

মমতা দাবি করেন, এই হিংসার ঘটনাগুলি পূর্বপরিকল্পিত। সামশেরগঞ্জ, ধুলিয়ান, সূতি— একাধিক এলাকায় অশান্তির পেছনে তিনি দেখছেন কেন্দ্রীয় সরকারের ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, “অমিত শাহের নাম এতদিন নিইনি, কিন্তু এখন বলতে বাধ্য হচ্ছি। যেসব IT সেক্টর রয়েছে, তার বেশিরভাগই ওনার দখলে। গদি মিডিয়াকে টাকা দিয়ে মিথ্যে খবর ছড়ানো হয়েছে। বাংলার বদনাম করা হচ্ছে আন্তর্জাতিকভাবে।”

তিনি চ্যালেঞ্জের সুরে বলেন, “আমি সামনে এসে কথা বলি, পিছনে নয়। যারা ছুপারুস্তম হয়ে কাজ করছে, তাদের আমি ভয় পাই না। গোপনে ইউনুসের সঙ্গে বৈঠক করে কী ফল পাবেন? দেশের মঙ্গল হলে ভালো, কিন্তু বাইরে থেকে লোক এনে দাঙ্গা বাঁধানো কখনোই বরদাস্ত করব না।”

শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, “আপনাকে বলব, অমিত শাহকে নিয়ন্ত্রণ করুন। এটা একটা প্রি-প্ল্যানড কমিউনাল রায়ট। রামনবমীর পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় এবার এইভাবে অশান্তি ছড়ানো হয়েছে। বিএসএফের হাত ধরে এ কাজ হয়েছে কিনা, সেটাও আমরা খুঁজে বার করব।”