বিশেষ: ১৪৩২-এ অক্ষয় তৃতীয়া কবে? জেনেনিন দিনক্ষণ-শুভ তিথি সম্পর্কে?

হিন্দু ধর্মে অক্ষয় তৃতীয়া এক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ উৎসব। প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনটি যে কোনও শুভ কাজ সম্পন্ন করার জন্য অত্যন্ত প্রশস্ত। লক্ষ্মী-নারায়ণের আরাধনা এবং নতুন জিনিসপত্র, বিশেষত সোনা কেনার জন্য এই দিনটিকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, এই শুভ তিথিতে যা কিছু কেনা হয়, তার ফল চিরস্থায়ী হয়।
অক্ষয় তৃতীয়া ২০২৫-এর তারিখ:
আগামী ৩০শে এপ্রিল ২০২৫ (বাংলায় ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩২) অক্ষয় তৃতীয়ার শুভ তিথি পড়েছে।
তৃতীয়া তিথির সময়:
- তৃতীয়া শুরু: ২৯শে এপ্রিল ২০২৫, সন্ধ্যা ৮টা ২২ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড
- তৃতীয়া শেষ: ৩০শে এপ্রিল ২০২৫, সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড
সোনা কেনার শুভ সময়:
৩০শে এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ০৫টা ৪১ মিনিট থেকে দুপুর ০২টা ১২ মিনিট পর্যন্ত সোনা কেনার জন্য সর্বোত্তম সময়।
অক্ষয় তৃতীয়ার রীতিনীতি:
সংস্কৃত ভাষায় ‘অক্ষয়’ শব্দের অর্থ হল ‘যার কোনও ক্ষয় নেই’ অর্থাৎ যা কখনও শেষ হয় না। এই বিশ্বাস থেকেই মনে করা হয়, অক্ষয় তৃতীয়ায় করা যে কোনও কাজ অক্ষয় ফল প্রদান করে। শাস্ত্র মতে, এই তিথি সুখ প্রদানকারী এবং পাপ নাশকারী। এই দিনে ব্যবসায়ীরা লক্ষ্মী-গণেশের পুজোর আয়োজন করেন এবং অনেকে দোকানে হালখাতাও করেন। শুধু দোকান নয়, বহু পরিবারেও এই দিন বিশেষ পুজো অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন মন্দিরে ভক্তদের ভিড় দেখা যায়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে সোনা কিনলে পরিবারে সুখ ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।
অক্ষয় তৃতীয়ায় এমন কাজ করা উচিত যা পুণ্য দান করে। এই দিনে ঈশ্বরের উপাসনা, পূজা ও ধ্যান করা উচিত। নিজের আচরণে মাধুর্য বজায় রাখুন এবং সাধ্যমতো অন্যদের সাহায্য করুন। আপনার দরজায় আসা অভাবীদের খালি হাতে ফেরাবেন না এবং তাদের দান করতে ভুলবেন না। এই শুভ তিথিতে সোনা বা অন্য কোনও মূল্যবান জিনিস কেনাও অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
অক্ষয় তৃতীয়ার গুরুত্ব:
এই পুজোর সঙ্গে বেশ কিছু পৌরাণিক কাহিনি জড়িত আছে। শোনা যায়, মহাভারতে কৌরবদের কাছে পাশা খেলায় হেরে পাণ্ডবরা বারো বছরের বনবাস ও এক বছরের অজ্ঞাতবাসে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। বনবাসকালে দুর্বাসা মুনি তাঁর শিষ্যদের নিয়ে এক রাতে পাণ্ডবদের আশ্রয়ে এলে, তাঁদের ঘরে কোনও খাদ্য ছিল না। ক্ষুধার্ত দুর্বাসা অভিশাপ দেবেন ভেবে উদ্বিগ্ন দ্রৌপদী শ্রীকৃষ্ণের শরণাপন্ন হন। তখন শ্রীকৃষ্ণ এসে হাঁড়ির তলায় লেগে থাকা একটিমাত্র চালের দানা খেয়ে নেন এবং আশ্চর্যজনকভাবে দুর্বাসা ও তাঁর শিষ্যদের পেট ভরে যায়। এই অক্ষয় তৃতীয়ার দিনই শ্রীকৃষ্ণ পাণ্ডবদের দুর্বাসার অভিশাপ থেকে রক্ষা করেছিলেন। সেই কারণে এই দিনটি অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত হয়।
অন্য একটি জনপ্রিয় পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, বিষ্ণুর নবম অবতার শ্রীকৃষ্ণ দ্বাপর যুগে মর্ত্যে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সুদামা নামে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ বন্ধু ছিলেন। একদিন সুদামা ভুলবশত কৃষ্ণের সমস্ত খাবার খেয়ে ফেলেন। এরপর তিনি শ্রীকৃষ্ণকে কিছু দেওয়ার জন্য একমুঠো চাল নিয়ে তাঁর কাছে আসেন। বন্ধু সুদামার এই নিঃস্বার্থ আচরণ শ্রীকৃষ্ণকে মুগ্ধ করে এবং তিনি সুদামাকে আশীর্বাদ করেন, যার ফলে তাঁর সমস্ত দারিদ্র্য দূর হয়। মনে করা হয়, যেদিন এই ঘটনা ঘটেছিল, সেদিন ছিল বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি। তাই এই দিনটি বিশেষভাবে শুভ।
এছাড়াও, শোনা যায় এই অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেই ভগবান পরশুরাম জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এই কারণেও এই দিনটি হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও শুভ বলে মানা হয়।