শাহজাহানের কোটি টাকার গাড়ি নিলামে তুলছে ইডি, রোজ ভ্যালির গাড়ি ‘কিলোদরে’ বিক্রির সম্ভাবনা?

উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে ইডি আধিকারিকরা তল্লাশি করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন। সেই মামলা জল অনেক দূর গড়ায়। হিসাব-বর্হিভূত আয়ের অভিযোগে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ইডি শাহজাহানের তিনটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে। অবশেষে সেই গাড়িগুলি নিলামে তোলা হচ্ছে। ইডি আধিকারিকদের দাবি, এই প্রথমবার রাজ্যে তাদের কোনও মামলায় বাজেয়াপ্ত করা গাড়ি নিলামের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এর আগে বহু গাড়ি বাজেয়াপ্ত হলেও, কখনও নিলাম হয়নি।
শুধু শাহজাহান নন, বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা রোজ ভ্যালির কর্ণধার গৌতম কুণ্ডুর প্রায় ৫০টি গাড়িও বাজেয়াপ্ত করেছিল ইডি। সেই গাড়িগুলি আট-নয় বছর ধরে ইডির হেফাজতে পড়ে থেকে কার্যত নষ্ট হতে বসেছে। ইডির একটি সূত্র জানাচ্ছে, শাহজাহানের গাড়ির নিলাম প্রক্রিয়া শেষ হলে গৌতমের গাড়িগুলিও নিলামে তোলা হবে।
ইডি সূত্রে খবর, পিএমএলএ (প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট) অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি নিলামে তুলে বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করে সেই অর্থ ফিক্সড ডিপোজিটে রাখা যায়। মামলার শেষে অভিযুক্ত দোষী সাব্যস্ত হলে সেই টাকা কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়। আর অভিযুক্ত নির্দোষ প্রমাণিত হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁকে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। শাহজাহান এবং গৌতমের ক্ষেত্রেও মামলা বিচারাধীন। আপাতত গাড়িগুলি নিলামে বিক্রি করে সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা পড়ার কথা।
ইডি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শাহজাহানের বাজেয়াপ্ত করা তিনটি গাড়ি নিলামের জন্য গত মার্চ মাসে বিশেষ ইডি আদালতে আবেদন করা হয়েছে। গাড়িগুলির মধ্যে রয়েছে একটি মাহিন্দ্র থার, যার তৎকালীন বাজারদর ছিল প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা। এছাড়াও প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার একটি স্করপিও এবং একটি হুড খোলা জিপও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। প্রায় এক বছর ধরে পড়ে থাকার কারণে গাড়িগুলির বাজারদর অনেকটাই কমে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, গৌতম কুণ্ডুর কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা গাড়িগুলির মধ্যে রোলস রয়েস, বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজের মতো বহু দামি বিদেশি গাড়িও ছিল। তিনি নিজে অর্ডার দিয়ে ছয় দরজার একটি লিমুজিনও বানিয়েছিলেন, যা বাজেয়াপ্ত তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইডির দাবি, গাড়িগুলি যখন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, তখন বিক্রি করলে কোটি কোটি টাকা পাওয়া যেত। কিন্তু এত বছর ধরে পড়ে থাকার কারণে সেগুলি প্রায় নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এক ইডি আধিকারিকের কথায়, “এখন কার্যত কিলোদরে বিক্রি করে দিতে হবে গাড়ি।”
প্রশ্ন উঠছে, কেন বাজেয়াপ্ত করার সঙ্গে সঙ্গেই গাড়িগুলি বিক্রি করা হয়নি? কেনই বা এতদিন সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি?
ইডি-র একটি সূত্র জানাচ্ছে, বাজেয়াপ্ত করা গাড়ি, বাড়ি বা অন্য সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তদন্তকারীদের কাজের অংশ নয়। সেটি ইডির অন্য একটি বিভাগ দেখে। অভিযোগ, মূলত তাদের অনীহার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একইভাবে নিলাম প্রক্রিয়া শুরু করতেও বছরের পর বছর লেগে যায়। এক ইডি আধিকারিকের মন্তব্য, “শাহজাহানের গাড়ি যদি বাজেয়াপ্ত করার এক বছরের মধ্যে নিলাম করা যায়, তাহলে রোজ ভ্যালির ক্ষেত্রে এত দেরি কেন হবে?”
জানা গেছে, বাজেয়াপ্ত করা গাড়ি ইডি সরাসরি বিক্রি করে না। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে কিছু নির্দিষ্ট এজেন্সি বা সংস্থা রয়েছে। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর ইডি তাদের বাজেয়াপ্ত গাড়ির তালিকা পাঠায়। নিলামের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া এবং বর্তমান বাজারদর নির্ধারণের সমস্ত ব্যবস্থাই ওই এজেন্সিগুলি করে। এই নিলাম প্রক্রিয়ায় যে কোনও ব্যক্তি অংশগ্রহণ করতে পারেন।