ছাই সরিয়ে পোড়া টাকা কুড়াতে ব্যস্ত দম্পতি, চোখের জল মুছে বললেন, “সব পুড়িয়ে দিয়ে গিয়েছে”

পোড়া ঘরের ধ্বংসস্তূপ। ছাই সরিয়ে তখনও কিছু খুঁজে চলেছেন বাড়ির কর্তা। হাতে উঠে আসছে একের পর এক পোড়া ‘কাগজ’। কাছে গিয়ে দেখা গেল, সেগুলি আসলে পোড়া টাকার নোট। চোখের জল মুছতে মুছতে বৃদ্ধ বললেন, “সব পুড়িয়ে দিয়ে গিয়েছে।” এমনই হৃদয়বিদারক ছবি ধরা পড়ল সামসেরগঞ্জের বেতবোনা গ্রামে।
বেতবোনার বাসিন্দা গণেশ ঘোষ এবং তাঁর স্ত্রী সুমিত্রা ঘোষ বর্তমানে যে বাড়িতে থাকেন, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই নিজেদের জমি বিক্রি করে লাগোয়া একটি জমিতে কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে নতুন বাড়ি তৈরি করছিলেন। সেই জন্য জমি বিক্রি করে পাঁচ লক্ষ টাকা বাড়িতেই রেখেছিলেন তাঁরা। কিন্তু গত শুক্রবার রাত থেকে এলাকায় যে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে, তার শিকার হয় এই বৃদ্ধ দম্পতির ঘরও।
পোড়া ভিটে থেকে দগ্ধ নোটগুলি একটি থালায় তুলে রাখছিলেন গণেশ ঘোষ। সেই পোড়া নোটের মধ্যে ছিল দু’শো এবং একশো টাকার তাড়া। হাউ হাউ করে কেঁদে চলেছেন বৃদ্ধ। তিনি অভিযোগ করেন, দুষ্কৃতীরা ঘরের ভেতর থেকে অন্যান্য জিনিসপত্র লুট করার পর পুরো বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, বাড়িতে থাকা গবাদি পশুদেরও রেহাই দেয়নি তারা। একটি ঘরে আটকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরে ফেলেছে তাদের, এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান সুমিত্রা ঘোষ। ঘরের খাদ্য সামগ্রী থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। হাতে পোড়া টাকা নিয়ে অসহায়ভাবে কাঁদছেন ঘোষ দম্পতি।
তাঁদের চার ছেলে কোনওমতে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। কান্না ভেজা গলায় ঘোষ দম্পতি বলেন, “যদি না পালাত, আমাদের চার ছেলেকে ওরা মেরেই ফেলত। আমরা হাত-পা ধরে নিজেদের রক্ষা করেছি। নতুন করে জীবন শুরু করার কোনও ভরসা পাচ্ছি না। চারপাশে শুধু অত্যাচার। এরপর যে আবার লুট হবে না, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। আমরা নতুন করে বাড়ি কী করে তৈরি করব? এত টাকা কোথায় পাব? আমাদের যা কিছু জমি জমা ছিল, সব তো বিক্রি করে দিয়েছি। ছেলেদের ভবিষ্যতের জন্য একটা আস্তানা গড়ছিলাম। সব শেষ হয়ে গেল।” এই কথা বলতে বলতে ফের কান্নায় ভেঙে পড়েন অসহায় এই দম্পতি।
এই ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, এই অসহায় দম্পতির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।