বিশেষ বিমানে ভারতে আসছে জঙ্গি রানা, জেরার জন্য তৈরি হয়েছে স্পেশাল টিম

২০০৮ সালের মুম্বই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তাহাব্বুর রানাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে নিয়ে আসা হচ্ছে। স্পাইসজেটের একটি বিশেষ বিমান ভারতীয় গোয়েন্দা ও তদন্তকারী কর্তাদের একটি যৌথ দলকে নিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।
দিল্লি বিমানবন্দরের পালাম টেকনিক্যাল এলাকায় যেখানে বিমানটি নামবে, সেখানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। বুলেটপ্রুফ গাড়ি এবং সশস্ত্র কমান্ডোদের একটি বিশাল কনভয় মোতায়েন করা হয়েছে। এই কনভয়ে চারটি ইনোভা, দুটি সাফারি, একটি জ্যামার এবং একটি বম্ব স্কোয়াড রয়েছে।
বিমানটি অবতরণের পরই এই কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে রানাকে জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হবে। ইতিমধ্যেই এনআইএ-র একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে, যেখানে রানাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ২৬/১১ মুম্বই হামলায় তার সুনির্দিষ্ট ভূমিকা এবং ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। ওই ভয়াবহ হামলায় ১৬৬ জন নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
এদিকে, তাহাব্বুর রানাকে ভারতে প্রত্যর্পণের বিষয়ে পাকিস্তান তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইসলামাবাদ এই ঘটনা থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাহাব্বুর রানা গত দুই দশক ধরে তার পাকিস্তানি নথি নবায়ন করেননি এবং তার কানাডিয়ান নাগরিকত্ব “খুবই স্পষ্ট”।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান সম্ভবত এই কারণে রানার থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিচ্ছে কারণ তাহাব্বুর রানা পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অথবা আইএসআইয়ের একজন ভেতরের লোক, যিনি এখন মুম্বই হামলার ষড়যন্ত্রে পাকিস্তানের সরাসরি ভূমিকা ফাঁস করতে পারেন।
ধারণা করা হচ্ছে, জিজ্ঞাসাবাদের পর তাহাব্বুর রানাকে হেফাজতে নেওয়ার জন্য দিল্লির একটি আদালতে পেশ করা হতে পারে। তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, খুন, জালিয়াতি এবং বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের অধীনে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর অবশেষে মুম্বই হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারীকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এখন সময়ের অপেক্ষা।