“যুবকের ফ্ল্যাটে গিয়ে নিজের বিপদ ডেকে এনেছে”-মন্তব্য হাইকোর্টের, অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর

এক স্নাতকোত্তর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করেছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। তবে, জামিন মঞ্জুর করার সময় আদালতের এক বিচারকের করা মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার সিং বলেছেন, ধর্ষণের অভিযোগকারিণী যদি সত্যিও বলে থাকেন, তবে “তিনি নিজেই ঝামেলা ডেকে এনেছিলেন” এবং তার জন্য তিনিও “দায়ী”।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, “যদি ভুক্তভোগীর অভিযোগ সত্য বলে মেনে নেওয়া হয়, তবে এটাও বলা যেতে পারে যে তিনি নিজেই ঝামেলা ডেকে এনেছিলেন। এর জন্য দায়ীও ছিলেন।”

আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, যদিও মেডিকেল পরীক্ষায় অভিযোগকারিণীর হাইমেন ছেঁড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে, তবে ডাক্তাররা যৌন নির্যাতনের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মতামত দেননি। বিচারপতি সিং বলেছেন, “যদিও তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষায় তার হাইমেন ছিঁড়ে গেছে বলে জানা গেছে, তবুও ডাক্তার যৌন নির্যাতনের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত মতামত দেননি।”

এছাড়াও, হাইকোর্ট বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে অভিযোগকারিণী একজন স্নাতকোত্তর ছাত্রী এবং পুলিশের কাছে দেওয়া তার বয়ান অনুযায়ী, তিনি “তার কর্মের নৈতিকতা এবং তাৎপর্য” বোঝার মতো যথেষ্ট পরিণত এবং সক্ষম।

ঘটনাটি গত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের। নয়ডা-ভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী তার তিন বান্ধবীর সঙ্গে দিল্লির হাউজ খাজের একটি বারে গিয়েছিলেন। সেখানে তার অভিযুক্তসহ কয়েকজন পুরুষ পরিচিতের সঙ্গে দেখা হয়। আইনি সংবাদ পোর্টাল বার অ্যান্ড বেঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশের কাছে করা অভিযোগে মহিলা জানিয়েছেন যে ভোর ৩টে পর্যন্ত মদ্যপানের পর তিনি নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। অভিযুক্ত তাকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য জোর করছিলেন।

অভিযোগকারিণী জানান, তার বারবার অনুরোধের কারণে তিনি তার সঙ্গে “বিশ্রাম নিতে” তার বাড়িতে যেতে রাজি হন। তবে, মহিলার অভিযোগ, অভিযুক্ত তাকে নয়ডায় না নিয়ে গিয়ে গুরুগাঁওয়ের এক আত্মীয়ের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গ্রেফতার করা হয়। তবে, অভিযুক্ত তার জামিনের আবেদনে যুক্তি দিয়েছিল যে মহিলা স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে গিয়েছিলেন কারণ তার সাহায্যের প্রয়োজন ছিল এবং তিনি বিশ্রাম নিতে চেয়েছিলেন। অভিযুক্ত তাকে কোনো আত্মীয়ের ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া বা ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে তাদের মধ্যে সম্মতিক্রমে যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল।

ধর্ষণের অভিযোগকারিণীকে কার্যত “ঝামেলা ডেকে আনার” জন্য দায়ী করে অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করার এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। নারী অধিকার কর্মী এবং আইনজীবীরা এই মন্তব্যকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং সংবেদনশীলতাহীন বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য ধর্ষণের শিকার হওয়া মহিলাদের আরও বেশি করে অভিযোগ জানাতে নিরুৎসাহিত করবে এবং অপরাধীদের প্রশ্রয় দেবে।