‘যোগ্য’তার বিচার চাইতেই পুলিশের লাঠিচার্জ! “টেনে নামব এই সরকারকে”, হুংকার চাকরিহারাদের

বুধবার তপ্ত দুপুরে রাজপথ উত্তাল হল চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিক্ষোভে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারানোর পর নিজেদের ‘যোগ্যতা’র বিচারের দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে চেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু তার বদলে জুটল পুলিশের লাঠির ঘা, চলল ধরপাকড়। পুলিশের এই ‘অমানবিক’ আচরণের বিরুদ্ধে চাকরিহারাদের পাল্টা হুঙ্কার, “টেনে নামব এই সরকারকে।”

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ডিআই অফিস ঘেরাও কর্মসূচির অংশ হিসেবে কসবার ডিআই অফিসের সামনেও জড়ো হয়েছিলেন বহু চাকরিপ্রার্থী। অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করে অফিসের দিকে এগোতেই পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এরপরই শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি। বিক্ষোভকারীদের টেনে হিঁচড়ে সরানোর চেষ্টা করে পুলিশ, যার ফলে বেশ কয়েকজন মাটিতে পড়ে যান। সেই অবস্থাতেই তাঁদের উপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ করা হয় বলে অভিযোগ। লাঠির আঘাতে গুরুতর চোট পান বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা। মহিলা শিক্ষকদেরও নিস্তার মেলেনি বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।

পুলিশের এই দমনপীড়নের প্রতিবাদে চাকরিহারারা ডিআই অফিসের সামনেই শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তীব্র গরমে এবং পুলিশের মারে একজন চাকরিহারা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরাও।

চাকরিহারাদের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়তে থাকে। তাঁদের অভিযোগ, “পয়সা ছাড়া একটা কাজ হয় না, একটা ফাইল এ টেবিল থেকে ও টেবিল যায় না। পেনশন হোক, যা হোক… এখন ওরা বসে বসে মজা নিচ্ছেন।” ক্ষুব্ধ এক চাকরিহারা বলেন, “ডিআই-ও ঘুষ খান। আমরা জঙ্গি নই, আমাদের কেন লাঠিপেটা? আমরা কি অস্ত্র নিয়ে এসেছিলাম? কার নির্দেশে এমনটা হল?” শিক্ষক অনিশ চট্টোপাধ্যায় কান্নাভেজা গলায় বলেন, “এত তো ভিডিও হচ্ছে, দেখান তো কোথাও আমরা ভায়োলেন্ট হয়েছি? আজ আমরা শিক্ষক হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে, হাতে পেন কোথায়? ছাত্রদের চোখে চোখ রাখতে পারছি না।”

হাতে পাঁচশো টাকার নোট নিয়ে প্রতীকী বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন অসহায় শিক্ষকরা। তাঁদের একটাই বার্তা, নিয়োগে দুর্নীতির মূল কারণ ঘুষ। এক চাকরিহারা বলেন, “পুলিশ ঘুষ দেব, ঘুষ… আমাদের দেখা করতে দিন। আমরা পুলিশকে ঘুষ দিতে চাইছি। আমাদের ওপর অন্যায় হয়ে আসছে।” আরেকজন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “ঘুষখোরদের ঘুষই দেব। যোগ্যতার, শিক্ষার যেখানে কোনও মূল্য নেই, সেখানে টাকারই মূল্য!” আরেক শিক্ষক অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের ভেরিফিকেশনের সময়েও ওরা টাকা ডিমান্ড করেছিল। আমাদের যোগ্য শিক্ষকরা যারা পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য প্রস্তুত ছিল, তখনও টাকা ডিমান্ড করেছিল। কারোর পাঁচশো টাকা, কারোর ১০০০ টাকা দাবি করেছিল। এখন ওরা ২ টাকা ঘুষের যোগ্য।”

চাকরিহারা শিক্ষকদের উপর পুলিশের এই লাঠিচার্জের ঘটনায় তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে। মানবাধিকার কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সকলেই পুলিশের এই আচরণকে ‘অমানবিক’ ও ‘গণতান্ত্রিক অধিকারের লঙ্ঘন’ বলে ধিক্কার জানিয়েছেন। চাকরিহারাদের পক্ষ থেকেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, এই ‘অন্যায়ের’ বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই চলবে এবং প্রয়োজনে তাঁরা এই ‘সরকারকে টেনে নামাতে’ও পিছপা হবেন না। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শিক্ষক মহলে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।