তৃষ্ণার্ত চিতাদের জল খাইয়ে বিপদে চালক, বরখাস্ত করা হল কুনো ন্যাশনাল পার্কের সেই ড্রাইভারকে

মধ্যপ্রদেশের কুনো ন্যাশনাল পার্কে সম্প্রতি এক ব্যক্তির চিতাবাঘদের জল দেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর কঠোর পদক্ষেপ নিল বন বিভাগ। ওই চালক সত্যনারায়ণ গুর্জরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি বন্যপ্রাণী সুরক্ষা সংক্রান্ত সুস্পষ্ট নিয়মের লঙ্ঘন।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, সত্যনারায়ণ গুর্জর নির্ভয়ে একটি চিতাবাঘ এবং তার চারটি শাবকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং একটি স্টিলের প্লেটে তাদের জন্য জল ঢালছেন। চিতাবাঘ ও শাবকগুলি শান্তভাবে সেই জল পান করছে। তবে, বন বিভাগের প্রোটোকল অনুযায়ী, বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে সরাসরি মানুষের এই ধরনের যোগাযোগ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

বন বিভাগের আধিকারিকরা এই ঘটনাটিকে নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কুনো ন্যাশনাল পার্কের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, সত্যনারায়ণ গুর্জরকে অবিলম্বে তার পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় অন্য কোনও কর্মী জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

কুনো ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের এবং পার্কে কর্মরত সকল কর্মীদের বন্যপ্রাণী, বিশেষত চিতাবাঘ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার এবং কোনও পরিস্থিতিতে তাদের খাবার বা জল না দেওয়ার জন্য পুনরায় সতর্ক করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাত এড়ানো এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অক্ষুণ্ণ রাখা।

ঘটনার ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই সত্যনারায়ণ গুর্জরের সাহস ও পশুপ্রেমের প্রশংসা করেছেন। তবে, বন বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বন্যপ্রাণীর সঙ্গে এই ধরনের ঘনিষ্ঠতা তাদের স্বাভাবিক আচরণে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন আনতে পারে এবং ভবিষ্যতে এটি উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, কুনো ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত নিয়মগুলি কঠোরভাবে মেনে চলার উপর আরও বেশি জোর দিয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য পার্ক প্রশাসন প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করছে।