গেট পাস ছাড়াই মমতার বৈঠকে হাজির ‘চিহ্নিত অযোগ্যরা’! ক্ষেপে গেলেন ‘যোগ্য’ চাকরিহারারা

কে যোগ্য, কেই বা অযোগ্য? কারা মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে ঢুকবেন—এই প্রশ্ন ঘিরেই সোমবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম চত্বর। দুই গোষ্ঠীর চাকরিহারাদের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ, গা গড়ায় সংঘাতের দিকে।
সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, গোটা এক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ প্যানেল বাতিল হয়েছে। প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল। আদালতের বক্তব্য, এই তালিকা থেকে নির্ভুলভাবে যোগ্য-অযোগ্য পৃথক করা সম্ভব নয়, তাই একযোগে প্যানেল বাতিল করা ছাড়া উপায় নেই। তবে রিপোর্টে কিছু অযোগ্যের নাম থাকলেও, সেটিই চূড়ান্ত নয়—এ নিয়ে স্পষ্ট করেছে আদালত।
কিন্তু বাস্তবের ধাক্কা লেগেছে যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের উপরেই। অযোগ্যদের দোষের ফল ভোগ করতে হচ্ছে তাঁদের। এই ‘অন্যায়’-এর প্রতিবাদে পথে নেমেছেন চাকরিহারারা—শহিদ মিনার থেকে হুঁশিয়ারি, নবান্ন অভিযানের ডাক। আর সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগাম বৈঠকের আয়োজন করেন।
কিন্তু বৈঠকের আগেই বিতর্কের পারদ চড়ে। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে সবার অংশগ্রহণের কথা বললেও, পরে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানান—শুধুমাত্র ‘যোগ্য’ চাকরিহারারাই এই বৈঠকে ঢুকতে পারবেন। ‘চিহ্নিত অযোগ্য’দের দেওয়া হবে না কোনও গেট পাস।
এই ঘোষণার পরেও সোমবার সকালে ইন্ডোরের সামনে হাজির হন একাধিক ‘চিহ্নিত অযোগ্য’ চাকরিপ্রার্থী। অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে কোনওরকম গেট পাসের যোগাযোগ করা হয়নি। একজনের কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী নিজেই আমাদের বৈঠকে আসার কথা বলেছেন। এখন আবার গেট পাসের কথা বলা হচ্ছে! এটা কোন ন্যায়ের কথা?”
এই পরিস্থিতিতেই ফেটে পড়ে ‘যোগ্য’ চাকরিহারারা। তাঁদের দাবি, “অযোগ্যরা বৈঠকে থাকলে আমাদের অবস্থান দুর্বল হয়ে যাবে। এটা আমাদের লড়াইয়ের মর্যাদার বিরুদ্ধে।”
এই উত্তেজনার মধ্যে বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা এখন সময় বলবে।