“আমাদের লাশের ওপর দিয়ে ২০২৬-এর নির্বাচন হবে”, রাজনৈতিক দলকে কড়া হুঁশিয়ারি চাকরিহারাদের !

আজ বেলা সওয়া বারোটায় এসএসসি চাকরিহারাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক আগের দিন, রবিবার শহিদ মিনারে একত্রিত হয়েছিলেন চাকরিহারাদের একাংশ। সেখান থেকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, ‘‘যদি আমাদের সমস্যার সমাধান না করা হয়, তাহলে ২০২৬-এর নির্বাচন কেউ লড়তে পারবে না। আমাদের লাশের ওপর দিয়ে নির্বাচন হবে।’’
বিক্ষোভকারী চাকরিহারাদের অভিযোগ, রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দল এখন নিজেদের মধ্যে কেবল ঝগড়া করছে। কিন্তু তাদের এই জীবন-মরণ সমস্যা সমাধানে কেউই একজোট হয়ে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাঁদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের রায় তাঁদের কাছে মৃত্যুদণ্ডের শামিল। ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা বলেন, ‘‘যে রায় আজ দেওয়া হয়েছে, তার পেছনে কি কোনও সঠিক যুক্তি আছে? আমরা তা বুঝতে পারছি না।’’
চাকরিহারাদের মনে একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তাঁরা জানতে চান, ‘‘সিবিআই তদন্তের রিপোর্ট যদি সুপ্রিম কোর্ট গ্রহণ না করে, তাহলে সেই রিপোর্টের আদৌ কোনও প্রয়োজনীয়তা ছিল কি?’’ চাকরি বাতিলের পর থেকেই তাঁরা এই প্রশ্ন তুলে আসছেন। তাঁদের আরও জিজ্ঞাসা, ‘‘যদি মৃত্যুদণ্ডের রায় দিতে এত সময় লাগে, তাহলে আমাদের মামলায় এত দ্রুত সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হল?’’
শহিদ মিনারের মঞ্চ থেকে চাকরিহারারা রাজনৈতিক দলগুলির কাছে সম্মিলিতভাবে সমাধানের আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, ‘‘রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নিজেদের ভেদাভেদ ভুলে একজোট হয়ে আমাদের সমস্যার একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করা। যদি তা না হয়, তাহলে কোনও রাজনৈতিক দলই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।’’
অন্যদিকে, চাকরিহারাদের একটি অংশ জানিয়েছে যে, তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের এই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন জানাবেন। তাঁদের দাবি, এই ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণার আগে আরও বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা উচিত ছিল। একইসঙ্গে, ভবিষ্যতে তাঁদের দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের পথে যাওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁরা।
মুখ্যমন্ত্রীর আজকের বৈঠক চাকরিহারাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই বৈঠক একটি দিশা দেখাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তবে, রবিবারের বিক্ষোভ এবং হুঁশিয়ারি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, চাকরিহারারা তাঁদের দাবি আদায়ে বদ্ধপরিকর এবং রাজনৈতিক দলগুলির উপর চরম চাপ সৃষ্টি করতেও পিছপা হবেন না।