জামাইয়ের চাকরি যেতেই হাউ হাউ করে কাঁদছে শ্বশুর, মুচকি হাসছে এক ব্যর্থ প্রেমিক!

ব্রাহ্মণ নন, এই কারণেই মেয়ের পছন্দ করা ছেলেকে মেনে নিতে পারছিলেন না শান্তিপুরের শিবু চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকারি চাকরি-র মোহে হার মানেন জাত-পাতের গোঁড়ামি। কিছুটা গাঁইগুঁই করেও রাজি হয়ে যান বিয়েতে। পাত্র যে সরকারি মাস্টার! সমাজের চোখ এড়ানো গেল না, তবে বিয়েটা ধুমধাম করেই হলো।

কিন্তু গল্পে মোড় নিল বৃহস্পতিবার সকালে। সুপ্রিম কোর্টের রায় দেখে চোখ কপালে শিবু বাবুর। জানলেন, এক কলমে শেষ হয়ে গেছে জামাইয়ের সেই চাকরি! তিনি কর্মরত ছিলেন শিলিগুড়ির এক স্কুলে। এখন তাঁর নাম ২৫,৭৫২ জন চাকরি বাতিল হওয়া কর্মীদের তালিকায়।

ফুঁপিয়ে কাঁদছেন শ্বশুর। মেয়ের ভবিষ্যতের চিন্তায় কাতর। বারবার বলছেন, “ও সৎ ছেলে, পড়াশোনা করে চাকরি পেয়েছে। দুর্নীতির সঙ্গে ওর কোনও সম্পর্ক নেই।” হেঁশেল গন্ধে ভরা যে বাড়িতে একদিন জামাইকে নিয়ে গর্বে বুক ফুলিয়েছিলেন, আজ সেখানে শুধু হতাশার ছায়া।

এই গল্প শুধু শান্তিপুরে নয়, প্রতিধ্বনি উঠছে রাজ্যের নানা কোণে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের দোকান, কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে এমন অনেক গল্প। আর এক সাংবাদিক বন্ধু তো একেবারে আক্ষেপে বলে ফেললেন,
“ভাই, আমারও বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল, কারণ তখন আমার সরকারি চাকরি ছিল না!”

হাসির মোড়কে লুকিয়ে থাকা বিষাদের গল্পটা আজ যেন একটু বেশি স্পষ্ট। বন্ধুটি জানায়, তার ‘এক্স’-এর বাবা ঠিক করেছিলেন, মেয়ে বিয়ে দেবে এক সরকারি মাস্টারকে। আজ শুনলেন সেই জামাইয়ের চাকরি চলে গেছে।
“এটাই লাইফ ভাই! আজকাল প্রেম নয়, চাকরিই হচ্ছে ভবিষ্যতের গ্যারান্টি।”
সঙ্গে হালকা হাসি, তবে চোখে একটু ফেলে আসা সময়ের কুয়াশা।

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, যাঁদের দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে—যেমন সাদা খাতা জমা দেওয়া বা ওএমআর শিটে নম্বরের কারচুপি—তাঁরা আর চাকরি পাবেন না। এঁদের মধ্যে প্রায় ৫,৪৮৫ জন রয়েছেন, যাঁদের ২০১৬ সাল থেকে পাওয়া বেতন ফিরিয়ে দিতে হবে ১২% সুদসহ। যদি টাকা না ফেরত দেওয়া হয়, তাহলে রেভিনিউ রিকভারি অ্যাক্ট অনুযায়ী সরকারের পক্ষ থেকে তা আদায় করা হবে, ঠিক যেমন কর আদায় হয়।

সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তবে তাতে অংশ নিতে পারবেন কেবলমাত্র ২০১৬ সালের প্রার্থীরাই। যাঁরা দুর্নীতিতে যুক্ত, তাঁদের সেই সুযোগও নেই।

চাকরি আর সম্পর্ক—দুটোই ভরসার জায়গা। কিন্তু এবার সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে, হাজার হাজার পরিবারে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তার ছায়া। ‘সরকারি মাস্টার’ পরিচয়ের গর্বে যাঁরা মেনে নিয়েছিলেন কিছু সম্পর্ক, আজ তাঁদের কাঁধেই যেন জমেছে অনুতাপের বোঝা।