“ধৈর্য হারাবেন না, মানসিক চাপ নেবেন না”-চাকরি হারাদের বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। যোগ্য ও অযোগ্য চাকরিপ্রাপকদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব না হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি পুরো প্যানেল বাতিল করে দিয়েছে। এর পাশাপাশি, চিহ্নিত অযোগ্য প্রার্থীদের ১২ শতাংশ সুদে বেতন ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এখন প্রশ্ন, বরখাস্ত হওয়া ২৫,৭৫২ জন চাকরিপ্রাপকদের ভবিষ্যৎ কী হবে?
এই কঠিন পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী ৭ এপ্রিল নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের অভাব-অভিযোগ শুনবেন বলে জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “আমাদের আইনজীবীরা এই মামলার রিভিউ করবে। যাদের চাকরি বাতিল করা হয়েছে, তারা শিক্ষামন্ত্রীকে আবেদন জানিয়েছেন। আমি যদি সেখানে উপস্থিত থাকি, তাহলে তারা খুশি হবে। আমি ৭ এপ্রিল ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তাদের কাছে যাব। তাদের কথা শুনব। বলব, ধৈর্য হারাবেন না। মানসিক চাপ নেবেন না।”
চাকরি হারানোর চিন্তায় যখন প্রায় ২৬ হাজার মানুষের রাতের ঘুম উড়ে যাওয়ার জোগাড়, সংসার চালানো এবং ঋণের বোঝা কমানোর দুশ্চিন্তা তাড়া করছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) আক্রমণ করতে ছাড়েননি। এদিন তিনি বলেন, “মানবিকতার খাতিরে পাশে দাঁড়ালাম বলে বিজেপি যদি আমাকে জেলে ঢোকাবে মনে করে, তাহলে স্বাগত জানাচ্ছি। ক্য়াচ মি ইফ ইউ ক্যান। হাইকোর্টে প্রথম এই ভার্ডিক্ট দিয়েছিলেন, তিনি বিজেপির এমপি হয়েছেন। আমি নামটা জানি না ঠিক, পরে জেনে নেব। আমি কাউকে অ্যাটাক করার জন্য জানি না। আমি বিশ্বাস করি এটা বিজেপি করিয়েছে।”
একইভাবে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকেও আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত এবং তাঁকেই বৃহত্তম আইনজীবী হিসেবে সুপারিশ করবেন বলেও কটাক্ষ করেন মমতা।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বড়সড় সংকট তৈরি হয়েছে। একসঙ্গে এত সংখ্যক শিক্ষক ও কর্মীর চাকরি বাতিল হওয়ায় পঠন-পাঠন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চাকরি হারানো পরিবারগুলির অর্থনৈতিক অবস্থাও চরম ক্ষতির মুখে পড়ার সম্ভাবনা।
মুখ্যমন্ত্রীর ৭ এপ্রিলের নেতাজি ইন্ডোরের কর্মসূচি চাকরি হারানো কর্মীদের জন্য কতটা আশা জাগাতে পারবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। রিভিউ পিটিশন এবং আইনি পথে এই সমস্যার কতটা সমাধান সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি তাঁদের অভাব-অভিযোগ শোনার আশ্বাস দেওয়ায় কিছুটা হলেও মানসিক স্বস্তি পেতে পারেন বরখাস্ত হওয়া কর্মীরা।