কিডনি পাচার করে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বানিয়েছে চক্র, ফ্রিজ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

গত কয়েক বছরে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর এবং পূর্ব মেদিনীপুরে কিডনি পাচারকারীদের সম্পত্তি লাফিয়ে বেড়েছে। সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া সুদখোর বিকাশ ঘোষ ওরফে শীতল কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে অশোকনগরে বানিয়েছে মার্বেলের বিলাসবহুল দোতলা বাড়ি। এছাড়াও লক্ষ লক্ষ টাকার গয়না সহ স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে কোটি টাকার বেশি সম্পত্তির মালিক হয়েছে সে। অন্যদিকে, এই চক্রের আরেক ধৃত গুরুপদ জানা ওরফে অমিত পূর্ব মেদিনীপুরে নিজের এলাকায় গত কয়েক বছরে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার জমি কিনেছে বলে জানা গেছে।

ধৃতদের জেরা করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসার পরই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, এই বিপুল সম্পত্তির সঙ্গে কিডনি পাচারের যোগসূত্র প্রমাণিত হলে অথবা ধৃতরা তাদের সম্পত্তির হিসাব দিতে ব্যর্থ হলে, পুলিশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পথে হাঁটবে। অশোকনগর থানার ওসি প্রাথমিক পর্যায়ে সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

পাশাপাশি, যার অভিযোগের ভিত্তিতে এই কিডনি পাচার চক্রের তদন্ত শুরু হয়েছে, তাঁর স্ত্রী যাকে কিডনি দান করেছিলেন, সেই উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের বাসিন্দা কিডনি গ্রহীতাকেও ইতিমধ্যে নোটিস পাঠিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন ভিনরাজ্যের কিডনি গ্রহীতার সন্ধান পেয়েছেন। তাদের সঙ্গে এই চক্রের কীভাবে যোগাযোগ হয়েছিল এবং কত টাকার বিনিময়ে তারা কিডনি কিনেছিলেন, সেই বিষয়টিও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

সূত্রের খবর, আড়ালে থাকা সেই মূল ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে, যার মাধ্যমে ভিনরাজ্য এবং বিদেশের ক্লায়েন্ট জোগাড় হত। খুব শীঘ্রই সেই কিডনি গ্রহীতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ধৃতদের অস্বাভাবিক হারে সম্পত্তি বৃদ্ধির বিষয়টিও একইসঙ্গে তদন্ত করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মঙ্গলবার গ্রেফতার হওয়া পাঁচ অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা হলে, বিচারক সুদখোর শীতলকে ২ দিনের জেল হেফাজত এবং অমিত সহ বাকি চারজনকে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।