আগামীকাল অশোক ষষ্ঠী: সন্তানের মঙ্গল কামনায় ব্রতী হবেন মায়েরা

আগামীকাল, ৩ এপ্রিল পালিত হবে অশোক ষষ্ঠী (Ashok Sasthi 2025)। সন্তানের কল্যাণ ও সুস্বাস্থ্য কামনায় হিন্দু মহিলারা এই ব্রত পালন করে থাকেন। প্রতি বছর চৈত্র মাসে এই ষষ্ঠী তিথি অনুষ্ঠিত হয়। এই ব্রতের প্রধান রীতি হল অশোক ফুলের কুঁড়ি এবং সবুজ মুগ কলাই খাওয়া।

কীভাবে খাওয়া হয় অশোক ফুলের কুঁড়ি:

অশোক ষষ্ঠীর ব্রতে ৬টি অশোক ফুলের কুঁড়ি এবং ৬টি সবুজ মুগ কলাই নিয়ে কাঁচা দুধ অথবা দইয়ের সঙ্গে মেশানো হয়। এই মিশ্রণটি দাঁতে না লাগিয়ে সরাসরি পান করতে হয়। এরপর ব্রতী মায়েরা ষষ্ঠীর ব্রতকথা পাঠ করেন।

অশোক ষষ্ঠীর মাহাত্ম্য: রাজা দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার উপাখ্যান:

অশোক ষষ্ঠীর সঙ্গে রাজা দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার একটি জনপ্রিয় গল্প প্রচলিত আছে। কথিত আছে, রাজা দুষ্মন্ত যখন শকুন্তলাকে বিবাহ করেন, তখন অন্য রানিরা তাঁদের সুখ সহ্য করতে পারতেন না। তাই, প্রতিবার শকুন্তলা যখন সন্তানের জন্ম দিতেন, তাঁরা রটনা করতেন যে শকুন্তলা কাঠের ঘোড়ার জন্ম দিয়েছেন। এই কথা শুনে রাজা দুষ্মন্ত ক্রুদ্ধ হতেন। এদিকে, রাজার অন্যান্য রানিরা শকুন্তলার সদ্যোজাত সন্তানদের গোপনে নদীর জলে ভাসিয়ে দিতেন।

একসময় রাজা দুষ্মন্ত বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে শকুন্তলাকে বনবাসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। রাজা যখন শকুন্তলাকে মুনি আশ্রমে ছাড়তে যান, তখন রানি (মতান্তরে শকুন্তলা নিজেই) রাস্তায় অশোক ফুলের কুঁড়ি ছিঁটিয়ে দিতে দিতে যান। এর উদ্দেশ্য ছিল, ভবিষ্যতে যদি কখনও আশ্রম থেকে দুষ্মন্তের কাছে ফিরে আসার প্রয়োজন হয়, তবে সেই অশোক বন ধরে তিনি পথ খুঁজে নিতে পারবেন। রাজার কাছে প্রত্যাবর্তনের আশায় শকুন্তলা অশোক ফুলের বীজ বপন করেছিলেন।

পরবর্তীতে, রাজা দুষ্মন্ত একদিন সেই অশোক বনের পথ ধরেই শকুন্তলার এবং তাঁদের হারানো সন্তানদের সন্ধান পান। সেই থেকেই অশোক ষষ্ঠী পালনের প্রথা প্রচলিত হয়েছে বলে মনে করা হয়।

অশোক ষষ্ঠীতে কী খাওয়া যায়:

এই ব্রতে ফল, সাবু, দই, লুচি ও পরোটার মতো খাবার গ্রহণ করা যায়। তবে, ধান বা চাল থেকে তৈরি কোনও খাবার, যেমন ভাত, চিঁড়ে বা মুড়ি এই দিন মায়েরা খান না। সন্তানের মঙ্গল কামনায় এই বিশেষ নিয়ম পালন করেন তাঁরা।