প্রয়াত মহাত্মা গান্ধীর নাতনি নীলাম্বেন পারেখ

প্রয়াত হলেন মহাত্মা গান্ধীর (Mahatma Gandhi) নাতনি নীলাম্বেন যোগেন্দ্রবাই পারেখ। বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ গুজরাটের নভসারিতে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। নীলাম্বেনের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও আত্মীয় পরিজনদের মধ্যে। তিনি ছিলেন মহাত্মা গান্ধীর বড় ছেলে, বিদ্রোহী হরিলালের নাতনি।

প্রয়াত নীলাম্বেন গান্ধী কেবল গান্ধী পরিবারের সদস্যই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন স্বনামধন্য লেখিকাও। তাঁর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ ‘গান্ধীজি’স লস্ট জুয়েল: হরিলাল গান্ধী’ (Gandhiji’s Lost Jewel: Harilal Gandhi)। এই বইটিতে তিনি গান্ধীজি এবং তাঁর পুত্র হরিলাল গান্ধীর মধ্যেকার জটিল সম্পর্ক, তাঁদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টির কারণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। উল্লেখ্য, হরিলাল গান্ধী এক সময়ে পরিবারের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, যা সেই সময় ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে কেন দূরত্ব বেড়েছিল হরিলালের?

জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই হরিলাল তাঁর বাবা মহাত্মা গান্ধীর অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। পুত্রও পিতাকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। তবে, দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য মহাত্মা গান্ধী এতটাই নিবেদিত ছিলেন যে, তিনি তাঁর পরিবারকে তেমন সময় দিতে পারেননি। পিতার প্রতি এই গভীর ভালোবাসাই একসময় হরিলালের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। ফলস্বরূপ, তিনি গান্ধী পরিবারের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে আলাদা জীবনযাপন করতে শুরু করেন। প্রয়াত নীলাম্বেন ছিলেন সেই পরিবারেরই একজন সদস্য।