মারাঠি কথা বলতে না পারায় নিরাপত্তারক্ষীকে কষিয়ে থাপ্পড়, কাঠগড়ায় এমএনএস কর্মীরা

মুম্বইয়ের পোওয়াই এলাকায় মারাঠি ভাষায় কথা বলতে না পারায় এক বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার (এমএনএস) কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একদল এমএনএস কর্মী ওই নিরাপত্তারক্ষীকে চড় মারছেন এবং তাকে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা বেপরোয়া ছিল।

এখনও স্পষ্ট নয়, কেন এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে এনডিটিভি মারাঠি সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তি উত্তর ভারতের বাসিন্দা, এবং তিনি স্থানীয় ভাষায় কথা বলতে পারেন না।

এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও মারাঠি ভাষা নিয়ে বিতর্কের জেরে এমএনএস কর্মীরা একাধিকবার অ-মারাঠি ভাষাভাষী মানুষদের হেনস্তা বা মারধর করেছেন।

গত মার্চ মাসে ভারসোভায় একটি সুপারমার্কেটের কর্মীকে মারধর করা হয়েছিল, কারণ তিনি বলেছিলেন—”আমি মারাঠিতে কথা বলব না, আমি শুধু হিন্দিতে কথা বলব। তোমাদের যা ইচ্ছে করার করো।”

রাজ ঠাকরের নেতৃত্বাধীন এমএনএস বলেছে,”এই ধরনের ঘটনা ইচ্ছাকৃত নয়। মহারাষ্ট্রে যারা বাস করেন, তাদের স্থানীয় ভাষাকে সম্মান করা উচিত। কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে মারাঠিকে অসম্মান করছেন, তাই মাঝে মাঝে শাস্তি দিতে হয়।”

এমএনএস মুখপাত্র বৈগেশ সারস্বত বলেন,”আমাদের কারও বিরুদ্ধে কোনও ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই, তবে মারাঠি ভাষাকে সম্মান করা আবশ্যক।”

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন লোক জনশক্তি পার্টির (এলজেপি) সাংসদ রাজেশ ভার্মা। তিনি বলেন—”এমএনএস রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের জন্য হিন্দিভাষীদের টার্গেট করছে। কঠোর পরিশ্রমী মানুষেরা সম্মান পাওয়ার যোগ্য, অপমান ও হিংসার নয়।”

ঘটনাটি সামনে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, ভাষার ভিত্তিতে বৈষম্য ও হিংসা একেবারেই অনুচিত। আবার কেউ কেউ বলছেন, মহারাষ্ট্রে বসবাস করলে মারাঠি ভাষা শেখা উচিত।

এই ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।