রাম নবমী ঘিরে উত্তপ্ত বঙ্গ! ‘আইন মেনেই মিছিল হবে’- অস্ত্র নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে জানিয়ে দিলেন RSS

রাম নবমীকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। একদিকে মিছিল ও উদযাপন ঘিরে বিজেপি ও সংঘ পরিবার কোমর বেঁধে নেমেছে, অন্যদিকে কড়া অবস্থান নিয়েছে তৃণমূল ও প্রশাসন। কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, “অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নামলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে, আরএসএস জানিয়েছে, তাদের মিছিল সম্পূর্ণ আইন মেনেই হবে। বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষও জানিয়েছেন, “অস্ত্র নিয়ে মিছিল করার প্রশ্নই নেই।”

শিলিগুড়ির সংঘ চালক হৃষিকেশ সাহা বলেছেন, “আমরা সংবিধান মেনেই সমস্ত কিছু করব। অনুমতি নেওয়ার সময় যে শর্ত দেওয়া হবে, সেই অনুযায়ী মিছিল হবে। তার বাইরে কিছু করা হবে না।”

বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, “রাম নবমীর উদ্যোক্তা বিজেপি নয়। এটি সকল রাম ভক্তের উৎসব। বিজেপি শুধুমাত্র সহযোগী হিসেবে থাকে। রাম নবমী উদযাপন সমিতি যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেই অনুযায়ী সবকিছু হবে। আমরা নিশ্চিত, সংবিধানবিরোধী কোনো কাজ করা হবে না।”

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, “রাম নবমীর দিন এক কোটি হিন্দুকে রাস্তায় নামতে হবে।” বিজেপির শীর্ষ নেতারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিজেপির এই আহ্বানের পর পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল। বিধায়ক মদন মিত্র সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, “পবিত্র দিনকে নষ্ট করলে বিনা ধোলাইয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন না।” তিনি আরও বলেছেন, “রাম নবমী তো সবার, বিজেপির একার নয়। ওরা যদি দলীয়ভাবে উদযাপন করতে চায়, তাহলে আগে-পরে পাহারা দেব।”

বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মদন মিত্রকে কটাক্ষ করে বলেন, “আগে সোজা হয়ে দাঁড়াও, তারপর লড়াই করতে এসো।”

রাম নবমী ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ বাড়ছে। প্রশাসনের কড়া নজরদারি এবং রাজনৈতিক দলগুলির পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে রাজ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।