অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বড় পদক্ষেপ! অভিযোগ জানাতে নতুন পোর্টাল চালুর ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

টাকা পাওয়া না-পাওয়া নিয়ে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের অভিযোগ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো নানা জল্পনার অবসান ঘটাতে এবার বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি নতুন সরকারি পোর্টাল চালু করা হচ্ছে। বুধবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান যে, অন্নপূর্ণা যোজনা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ জানানোর জন্য এই পোর্টালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং এই পুরো বিষয়টি পরিচালনার প্রধান দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিডিও (BDO)-দের।
অন্নপূর্ণার নিয়মে বড় বদল ও বাতিল ২৬ লক্ষ আবেদন
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যাঁদের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার বেশি, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন না। একই সঙ্গে, যেসব আবেদনকারীর নাম পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী ভোটার তালিকায় নেই, তাঁদের আবেদনও খারিজ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই নির্দিষ্ট কারণে প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কারা এই প্রকল্পের টাকা পাবেন না বা পেলেও কী নিয়ম?
বয়সের কড়াকড়ি: নির্দিষ্ট বয়সসীমা অর্থাৎ ২৫ বছরের কম এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সি মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
অন্যান্য ভাতা প্রাপক: যারা ইতিমধ্যেই বিধবা ভাতা বা সমমানের অন্য কোনো সরকারি সামাজিক ভাতা (যা ৩,০০০ টাকার কম) পাচ্ছেন, তারা আলাদা করে এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ টাকা পাবেন না। বরং তাদের ক্ষেত্রে সেই পুরনো ভাতার পরিবর্তে অন্নপূর্ণা যোজনার পূর্ণাঙ্গ টাকা প্রদান করা হবে।
গ্রামীণ এলাকার জন্য নিয়মে বড় ছাড়
প্রকৃত যোগ্য দরিদ্র মহিলারা যাতে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন, তার জন্য বেশ কিছু কঠোর নিয়মে বড়সড় শিথিলতা এনেছে রাজ্য সরকার। পূর্বে বাড়ির পাকা ঘর বা নির্দিষ্ট সংখ্যক ঘর থাকা নিয়ে যে কড়া নিয়ম ছিল, তা গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে শিথিল করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে গ্রামীণ অঞ্চলের আরও বেশি সংখ্যক দরিদ্র মহিলা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারবেন।
পাশাপাশি, সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো—কোনো মহিলা যদি শারীরিক ভাবে অক্ষম বা দিব্যাঙ্গ ভাতা (Disability Allowance) পান, তবে তিনি সেই ভাতার পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকার আর্থিক সুবিধাও সম্পূর্ণভাবে পাবেন। অর্থাৎ এই বিশেষ ক্ষেত্রে দুটি সুবিধাই একসঙ্গে চালু রাখার অনুমতি দিয়েছে রাজ্য সরকার।
অর্থাৎ মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও আর্থিক উন্নতির লক্ষ্যে জুনের ২৬ তারিখে প্রথম দফায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার কাছে এই টাকা পৌঁছেছিল এবং জুলাই মাসে ১ কোটিরও বেশি উপভোক্তা এই প্রকল্পের সুফল পেয়েছেন। নতুন পোর্টাল চালু এবং নিয়ম শিথিল হওয়ায় আগামী দিনে এই প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়বে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।