নাম বদল নিয়ে সংসদে সরব শমীক ভট্টাচার্য! কেন ‘বাংলা’ নামের ঘোর বিরোধিতা করল বিজেপি?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমল থেকেই ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ (West Bengal)-এর নাম পরিবর্তন করে শুধুমাত্র ‘বাংলা’ (Bangla) করার প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। ২০২৬ সালে রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পরও সেই পুরনো অবস্থান থেকে সরে আসেনি শাসকদল। কেন এই নাম পরিবর্তনের পক্ষপাতী নয় দল, রাজ্যসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে সেই অবস্থান ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন বিজেপি সাংসদ তথা রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

রাজ্যসভায় নাম বদল নিয়ে তরজা
বুধবার সংসদ ভবনে কেরলের নাম পরিবর্তন করে সরকারিভাবে ‘কেরলম’ (Keralam) করার বিলের ওপর আলোচনা চলছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে আনা এই বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা গত সাত-আট বছর ধরে রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ করার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আমাদের সেই দাবি আজও মানা হয়নি। কেরলের নামকরণে আমরা খুশি, কিন্তু কেন বাংলার ক্ষেত্রে এই বঞ্চনা করা হচ্ছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না।”

কেন ‘বাংলা’ নামের বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ চান শমীক?
তৃণমূল সাংসদের এই আপত্তির পরেই আলোচনায় অংশ নেন বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তিনি ‘বাংলা’ বা ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’—কোনোটিই না রেখে শুধুমাত্র ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামটি ব্যবহারের জোরালো দাবি জানান।

এই দাবির সপক্ষে ঐতিহাসিক যুক্তি দিয়ে শমীক বলেন, “আমরা যারা পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছি, আমাদের একটি নির্দিষ্ট ও রক্তাক্ত রাজনৈতিক অতীত রয়েছে। ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের জন্ম হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক দিনেও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল—পাকিস্তান বা পশ্চিম পাকিস্তান যাই হোক না কেন, তা বিচার্য নয়; মূলত বাঙালি হিন্দুদের সুরক্ষার জন্য একটি আলাদা হোমল্যান্ড বা মাতৃভূমির প্রয়োজন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “কিন্তু দেশভাগের পর আমাদের নাম করে দেওয়া হলো ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’। এই ইংরেজি পরিভাষার বদলে যদি শুধু ‘বাংলা’ করা হয়, তবে ১৯৪৭ সালের সেই মর্মান্তিক দিনগুলিতে যেসব বাঙালি নিজেদের রক্ত দিয়েছেন, শহিদ হয়েছেন, তাঁদের সেই ঐতিহাসিক অবদান ও আত্মত্যাগকে চিরতরে ভুলে যাওয়া হবে। তাই ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ বা শুধু ‘বাংলা’ নয়, এই রাজ্যের নাম সগৌরবে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ হওয়া উচিত।”

বখতিয়ারপুর জংশন ও বিহারের নাম বদলের দাবি
এদিন নাম পরিবর্তনের এই তত্ত্বে আরও কয়েকটি নতুন সংযোজন করেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বিহারের নাম পরিবর্তন করে প্রাচীন ঐতিহাসিক নাম ‘পাটলীপুত্র’ করার সুপারিশ করেন। পাশাপাশি, ঐতিহাসিক নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনের পথে থাকা বখতিয়ারপুর জংশন-এর নামও অবিলম্বে পরিবর্তনের দাবি জানান তিনি।

এই দাবির পক্ষে যুক্তি দিয়ে শমীক ব্যাখ্যা করেন যে, বখতিয়ার খিলজী ইতিহাসের পাতায় নিষ্ঠুরভাবে প্রাচীন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পুড়িয়ে ধ্বংস করেছিলেন। তাই কোনো রেলওয়ে স্টেশনের নাম যদি আজও তাঁর নামে থাকে, তবে তা সমগ্র জাতির পক্ষে অত্যন্ত লজ্জাজনক একটি বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *