‘যন্তর মন্তর সিজন ২’-এর হুংকার! কেন্দ্র ও বিজেপির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ফের বড় আন্দোলনের পথে অভিজিৎ দীপের দল

নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে টানা ৩৬ দিনের দীর্ঘ আন্দোলন এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগের পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণা করল এই উদীয়মান রাজনৈতিক দল। একদিকে গ্রামীণ স্কুলগুলির বেহাল দশা ও পরিষেবা নিয়ে অভিভাবকদের সরাসরি জানানোর আহ্বান, অন্যদিকে আসন্ন ‘যন্তর মন্তর সিজন ২’ আন্দোলনের হুংকার—সব মিলিয়ে ফের একবার জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়াল সিজেপি (CJP)।
ভেন্যু বাতিলের নেপথ্যে রাজনৈতিক চাপ?
সর্বভারতীয় একটি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি দিল্লিতে দলের স্বেচ্ছাসেবক বা ভলান্টিয়ারদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে, শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক চাপে সেই মিটিং ভেস্তে যায়। কেন্দ্র ও দিল্লির শাসকদল বিজেপির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চাপের ফলেই যে হোটেলের ব্যাঙ্কোয়েট হলে মিটিংটি হওয়ার কথা ছিল, তার মালিক বুকিং বাতিল করতে বাধ্য হন। যদিও এই বিষয়ে বিজেপি শিবিরের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
“আমরা ভয় পাওয়ার পাত্র নই”—অভিজিৎ দীপ
দিল্লির নারায়নায় আয়োজিত একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ তীব্র আক্রমণ শানান শাসকদলের বিরুদ্ধে। তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামে তরুণ প্রজন্ম ও সমর্থকরা বারবার জানতে চাইছেন কবে থেকে ‘যন্তর মন্তর সিজন ২’ আন্দোলন শুরু হবে।
এই প্রসঙ্গে অভিজিৎ বলেন, “ইনস্টাগ্রামে অনেকেই প্রশ্ন করছেন যন্তর-মন্তরের সিজন ২ কবে শুরু হবে। আমি তাঁদের বলতে চাই, খুব শীঘ্রই যন্তর মন্তর সিজন ২ শুরু হতে চলেছে।”
বৈঠকের হল না পাওয়া প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি আরও দাবি করেন, “আমরা দিল্লিতে ভলান্টিয়ার্স মিটিংয়ের জন্য হল খুঁজছিলাম, কিন্তু কেউ আমাদের হল ভাড়া দিতে রাজি হচ্ছিল না। প্রত্যেকেই বলছিল উপর থেকে প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। এমনকি যে জায়গাটি আমরা শেষমেশ ঠিক করি, অনুষ্ঠানের দিন সকালেও তাদের হুমকি দেওয়া হয়। বলা হয় সভা করতে দিলে উল্টো ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।” শাসকদলকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি দেশের যুবসমাজকে ভয় পাচ্ছে এবং তাদের এই দমনপীড়ন নীতি থেকেই তা স্পষ্ট। এই ধরনের ছোটখাটো পদক্ষেপে তাঁদের দমিয়ে রাখা যাবে না বলেও হুংকার দেন তিনি।
শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী ‘লিসেনিং ট্যুর’
সংঘাতের রাজনীতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে বিশেষ কর্মসূচি নিয়েছে দল। সিজেপি-র মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন যে, দলের পরবর্তী ধাপের জনসংযোগ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। আগামী ১৫ অগস্ট থেকে দেশের বেহাল শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর কড়া নজরদারি চালাতে এবং সাধারণ মানুষের কথা শুনতে দেশজুড়ে একটি বিশেষ ‘লিসেনিং ট্যুর’ (Listening Tour) অভিযান শুরু করতে চলেছে ককরোচ জনতা পার্টি। এই ট্যুরের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের মতামত সংগ্রহ করা হবে।